ভারতের মনিপুরের স্বাধীনতার ঘোষণা, লন্ডনে প্রবাসী সরকার

ইউরোপ ভারত লিড নিউজ

(লন্ডন, যুক্তরাজ্য) ভারত থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে মনিপুর রাজ্য। মঙ্গলবার লন্ডনে রাজ্যটির দুই নেতা নিজেদের রাজা লেইশিম্বা সানাজাওবার প্রতিনিধি দাবি করে এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তারা ‘প্রবাসী মনিপুর সরকার’ গঠন করেছেন। তবে স্বয়ং মনিপুরি রাজা লেইশিম্বা এ খবর শুনে ‘বিস্মিত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে ‘মনিপুর স্টেট কাউন্সিলের’ ঘোষণা দেন ইয়ামবেন বিরেন ও  নারেংবাম সমরজিৎ। মনিপুর প্রবাসী সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ইয়ামবেন বিরেন এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়েছেন নারেংবাম সমরজিৎ। তারা এখন জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে স্বাধীন মনিপুরের স্বীকৃতি চাইছেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষনিকভাবে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশন কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

বিরেন ও সমরজিৎ চলতি বছরের আগস্ট থেকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন বলে নথিপত্র দেখিয়েছেন। তারা জানান, যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার পর বৈধ সরকার মনিপুর থেকে লন্ডনে স্থানান্তরিত হয়েছে। বিশ্বের কাছে স্বাধীন মনিপুর সরকারকে তুলে ধরার ও স্বীকৃতি চাওয়ার এটিই সঠিক সময় বলে আমরা মনে করি। জাতিসংঘের সদস্য সার্বভৌম সরকারগুলোকে মনিপুরের বৈধ ও প্রবাসী সরকারকে আজ থেকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ৩০ লাখ মনিপুরি জনতা একটি মর্যাদাবান স্থানীয় জাতি হিসেবে স্বীকৃতি চায় বলেও দাবি করেছেন তারা।

সমরজিৎ বলেন, ‘সেখানে আমরা মুক্ত নই এবং আমাদের ইতিহাস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই জাতিসংঘের শোনা উচিত, গলা উঁচু করে পুরো বিশ্বকে বলছি মনিপুরে যারা বাস করে তারা মানুষ। তারা এখন থেকে স্বাধীন।’ মনিপুরে এক হাজার ৫২৮টিরও বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মামলা ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে বিচারাধীন বলে দাবি করেন তারা। বলেন, ‘মনিপুর স্টেট কনিস্টিটিউশন অ্যাক্ট ১৯৪৭ এর অধীনে মনিপুর রাষ্ট্রের বৈধ সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এটি ব্রিটিশ রাজ থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল। ১৯৪৯ অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে ভারত সরকার মনিপুর রাষ্ট্রকে আত্মীকরণ করে নেয়।’ এ দুই নেতা জানান, তারা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বরাবর আপিল করবেন এবং প্রিভি কাউন্সিলের আদেশ পাওয়ার পর স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবেন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এটি ব্রিটিশ রাজ থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল। ১৯৪৯ অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে ভারত সরকার মনিপুর রাষ্ট্রকে আত্মীকরণ করে নেয়।’ এ দুই নেতা জানান, তারা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বরাবর আপিল করবেন এবং প্রিভি কাউন্সিলের আদেশ পাওয়ার পর স্বীকৃতির জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হবেন।

এ খবরে বিস্মিত হয়েছেন মনিপুরের রাজা লেইশিম্বা। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিরেন ও সমরজিৎ লন্ডনে ঐতিহাসিক নথি ও ফটোগ্রাফির ওপর গবেষণার জন্য আমার কাছে একটি অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিলেন। এটি নিয়ে তাদের এ ধরণের কর্মকাণ্ডে আমি ‘আঘাত’ পেয়েছি।

ভারতের ছোট রাজ্যগুলোর একটি মনিপুর। এর জনসংখ্যা প্রায় ২৮ লাখের মতো। রাজ্যটি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন স্টিস্টার্সের’ অন্যতম। ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার দুই বছর পর ১৯৪৯ সালে রাজা শাসিত মনিপুর ভারতের অংশ হয়। কিন্তু ওই সময় থেকেই কয়েক দশক ধরে সেখানে সহিংস বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *