প্রয়োজনে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ আরও বাড়ানো হবে: হুঁশিয়ারি এরদোগানের

ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য

(আঙ্কারা, তুরস্ক) তুর্কি সীমান্তে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রস্তাবিত ‘সেফ জোন’ তথা নিরাপদ অঞ্চল আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। বুধবার (৩০ অক্টোবর) পার্লামেন্টারি গ্রুপের এক সভায় তিনি বলেন, কুর্দিদের হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনে ওই অঞ্চলের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

৯ অক্টোবর সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। আঙ্কারা বলছে, তুরস্কে আশ্রয় নেয়া ৩৬ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে পুনর্বাসনের জন্য সীমান্ত থেকে সিরিয়ার ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ‘সেফ জোন’ গড়ে তুলতে চায় তারা। ওই অভিযানের আগ মুহূর্তে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। যা তুর্কি অভিযানে ‘সবুজ সংকেত’ দেয়।

পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা। যুদ্ধবিরতিকালে তুর্কি বাহিনী সিরিয়াতেই অবস্থান করছিল। পরে সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার এক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও রাশিয়া। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুর্কি সীমান্তে টহল শুরু করে রুশ সেনারা। এরদোগান বলেন, ‘নিরাপদ অঞ্চলের (সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল) বাইরে থেকে আসা যেকোনও হামলার কড়া জবাব দেবো আমরা। প্রয়োজনে আমরা নিরাপদ অঞ্চল আরও সম্প্রসারিত করব।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিরিয়ায় অভিযানের পর দেশের বাইরে থেকে বিশেষত ইউরোপ থেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে অন্তত ৭০০ হামলা চালিয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী ওয়াইপিজি। তিনি ইউরোপের দেশগুলো উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা ভুল করছেন। আজ যে সাপকে খাওয়াচ্ছেন, আগামীতে সেই সাপই আপনাদের কামড়াবে।’ এই ‘স্বাধীনতার নতুন যুদ্ধে’আঙ্কারা ধীরে ধীরে বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের ছাড়লেও পশ্চিমা দেশগুলো এখনও সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এরদোগান দাবি করেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের ৯০০ সন্ত্রাসীকে নিষ্ক্রিয় করে ৪ হাজার ২০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ৫৫৮টি বসতি সরিয়ে দিয়েছে তুরস্ক।

কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কুর্দিদের সন্ত্রাসী মনে করে আঙ্কারা। তাদের দাবি, সিরিয়ায় কুর্দিদের সংগঠন ওয়াইপিজি আসলে তুরস্কে কুর্দিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পিকেকের শাখা। কুর্দি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পিকেকে তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার অংশবিশেষ নিয়ে কুর্দিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।

পিকেকে তিন দশক ধরে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। আফরিনসহ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে ২০১২ সালে সেনা প্রত্যাহার করে নেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এরপর ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টির (পিওয়াইডি) কুর্দিরা ওই সময় এলাকাটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারপর ওই অঞ্চল থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে বিতাড়িত করে কুর্দিদের সশস্ত্র বাহিনী ওয়াইপিজি।

আর তুরস্ক আফরিন থেকে ওয়াইপিজিকে বিতাড়িত করতে চায়। কারণ, তারা বাহিনীটিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এ জন্য কুর্দিদের সংগঠন ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসবাদী স্বীকৃতি দেওয়ার পরও তাদের প্রতীকগুলোকে অনুমতি দেওয়া দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *