ইইউ’র কৃষি ভর্তুকির টাকা রাজনীতিকদের পকেটে

ইউরোপ লিড নিউজ

(ব্রাসেলস, বেলজিয়াম) কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়েন (ইইউ)। কমন এগ্রিকালচারাল পলিসি বা ক্যাপ’র অধীনে প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়। কিন্তু যাদের জন্য এই বিশাল অর্থ তাদের কাছেই পৌছায় না। বেশিরভাগই মেরে খায় ইইউ দেশগুলোর নেতারা। এই অর্থেই ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। নিজেদের ক্ষমতা আরও শক্ত ও পোক্ত করছে রাজনীতিকরা। বাড়ছে অর্থের অবৈধ লেনদেন। শুধুরা নেতারাই নয়, এই অর্থ যাচ্ছে নেসলের মতো বড় বড় খাদ্য উৎপাদন কোম্পানিগুলোর পকেটেও।

১৯৬২ সালের কৃষিনীতি অনুযায়ী এই কৃষি র্ভতুকি বিলি করে থাকে ইইউ। প্রধানত ফসল বা ফল ফলানো, পশুপালন, কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির মতো খাতে দেয়া হয় এই ভর্তুকি। আবার কম কীটনাশক ব্যবহার, আইলে গাছ না লাগানো, জমি ফেলে রাখা, পুকুর না বোজানো, গাছ বা ঝোপঝাড় বাঁচিয়ে রাখা, ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্যও মেলে ভর্তুকি। বিনিময়ে ইউরোপকে খাদ্য নিরাপত্তা দিয়েছে কৃষিরা। কৃষিজীবীদের আয়ের নিরাপত্তা না থাকলে ইউরোপবাসীরা এত কম দামে এই পরিমাণ খাবারদাবার কিনতে পারতেন না। ৭৫০ ধরণের স্থানীয়, প্রথাগত খাদ্যদ্রব্য আর প্রায় দু’হাজার বিভিন্ন ধরনের সুরা ও মদ্যকে এভাবে সুরক্ষিত করে রাখা যেত না। মার্কিন ফুড ইন্ডাস্ট্রি ইউরোপের বাজার ভাসিয়ে দিতো।

ভর্তুকির টাকার বড় অংশটিই বৃহৎ ফার্মগুলো পকেটে যায় বলে অভিযোগ করে আসছে কৃষকদের। চলতি সপ্তাহে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে জার্মানির কৃষকরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রতি বছর জার্মানির ৩,৩০০ বৃহৎ খামার ১১৪ কোটি ডলার ভর্তুকি নিচ্ছে। যেখানে পরিবারভিত্তিক ২ লাখ কৃষি খামার পাচ্ছে ৭৯ কোটি ডলার। এই ভর্তুকির কারণে বড় কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ৯০ শতাংশই গ্রামাঞ্চল। সেখানে ৬০ শতাংশ অধিবাসীর বাস। অথচ ইউরোপে কৃষিজীবীদের সংখ্যা প্রতিবছর দুই শতাংশ কমে যাচ্ছে। চাষি ছাড়া গ্রাম বাঁচে না, গ্রামীণ সংস্কৃতি বাঁচে না। এ কথা ইউরোপেও সত্য। কিন্তু ক্যাপের ভরতুকির ৮০ শতাংশ যায় ২০ শতাংশ বড় খামারগুলোর কাছে। এর মধ্যে যেমন ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথ পড়ে়ন। যিনি বছরে পাঁচ লাখ ইউরো কৃষি ভর্তুকি পান। তেমনই ক্যাম্পিনা কিংবা নেসলের মতো বিশাল বিশাল খাদ্য কোম্পানিগুলোও পেয়ে থাকে। এভাবেই গত বছরই ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ট্যাকে গুজেছেন চেক রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিস।

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের জাকভার শহর। কমিউনিস্ট শাসনামলে এখানকার কৃষকদের সব জমি কেড়ে নেয়া হয়েছিল। মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে জোরপূর্বক শ্রম দিত কৃষকরা। গম আর অন্যান্য ফসল সরকারের গোলায় তুলে দিত। প্রায় তিন দশক পরে এসে বর্তমানে সেই সব কৃষকের ছেলে-মেয়েরা নতুন এক শ্রেনীর ‘জমিদারে’র অধীনে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। দেশটির ধনীক শ্রেনী, রাজনৈতিক নেতা ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরাই এই নতুন জমিদার। হাঙ্গেরি প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের সরকারের সঙ্গে অস্পষ্ট ও অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার একর জমি বাগিয়ে নিয়েছে তারা। তৈরি করেছে আধুনিক ধাচের সামন্ত ব্যবস্থা। মূলত এরাই পকেটে পুরছে কৃষি ভর্তুকির বেশিরভাগ অর্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *