নতুন সংবিধান রচনায় কমিটি গঠন করল সিরিয়া

মধ্যপ্রাচ্য

(দামেস্ক, সিরিয়া) দীর্ঘ আট বছরের যুদ্ধ শেষে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন সংবিধান প্রনয়ন করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। এজন্য ৪৫ সদস্যের একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধানের খসড়া রচনায় সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে কমিটি।

সরকার, বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান প্রণয়নের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। একে শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে সংস্থার মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, সিরিয়া এখন সত্যিকারের আইনের শাসনের পথে উঠেছে।

এএফপি জানায়, সিরিয়ার নতুন সংবিধান তৈরির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুক্রবার পর্যন্ত পরপর দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক আয়োজনে মধ্যস্থতা করেন সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসন। শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘দুদিনের বৈঠক অত্যান্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।’ পেডারসন জানান, জেনেভার জাতিসংঘ দফতরের ওই বৈঠকে সরকারি, বিরোধী দলীয় ও সুশীল সমাজের অন্তত ১৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সংবিধান সম্পর্কিত প্রাথমিক ধারণা নিয়ে কথা বলেন তারা। বৈঠকে সংবিধান প্রণয়েরে কমিটিও গঠন করা হয়।

সংবিধান প্রণয়ণে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করতে গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো কাজখাস্তানে বৈঠকে বসে সিরিয়ার যুদ্ধরত পক্ষগুলো ও মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু বৈঠক ব্যর্থ হয়। পরের মাসেই জেনেভায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন।

সেই সময় সিরিয়াবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টাফান দ্য মিসতুরা সংবিধান প্রণয়নে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক’ কমিটি গঠনের আহŸান জানান। এ কমিটিতে রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা থাকবেন। কিন্তু সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালেদ আল মুয়ালি­ম বলেন, সিরিয়ার সংবিধান তৈরিতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

এরপর প্রায় এক বছরের মাথায় গত বুধবার দুদিন ব্যাপী বৈঠক শুরু হয়। সিরিয়ার সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক উপলক্ষে জাভেদ জারিফ জেনেভা শহর সফর করেন। রাশিয়া ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এছাড়া জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

জারিফ ওই বৈঠকের প্রশংসা করে বলেন, কয়ে়ক বৎসরের বিপর্যয়কর যুদ্ধের পর সিরিয়া এখন সত্যিকারের আইনের শাসনের পথে হাঁটা শুরু করল। এক্ষেত্রে পক্ষগুলোর মধ্যে মতভেদ, সন্দেহ ও আস্থার বেশ অভাব দেখা গেলেও তারা একে ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছে। একসঙ্গে এক টেবিলে বসা ও সমস্যা নিয়ে আলোচনাকেই তার প্রমাণ বলে মনে করছেন পেডারসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *