চাঁদে ‌‌’ইকোনোমিক জোন’ গড়বে চীন

চীন বিশ্বজগৎ

(বেইজিং, চীন) চীনের অর্থনেতিক উচ্চাঙ্ক্ষা পূরণের ক্ষেত্রে পৃথিবী খুবই ছোট। দেশটি এবার আমাদের গ্রহের বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক সম্রাজ্য গড়ার চিন্তা করছে। আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদে ইকোনোমিক জোন (অর্থনৈতিক অঞ্চল) গড়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে বেইজিং। এ অর্থনৈতিক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১০ লাখ কোটি ডলার ব্যয় ধার্য করা হয়েছে। চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থার প্রধান বাও ওয়েমিন গত সপ্তাহে এ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ডেইলি নিউজের বরাতে মঙ্গলবার রাশিয়ার টিভি নেটওয়ার্ক এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে।

ডেইলি নিউজ জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চাঁদের মহাকাশ অঞ্চল এবং চাঁদ-পৃথিবীর মধ্যে যোগসূত্র গড়ে নির্মাণ করা হবে। বাও ওয়েমিন বলেন, এ ইকোনোমিক জোনের পরিধি পৃথিবী ও চাঁদের কাছাকাছি স্থান ছাড়াও মধ্যবর্তী জায়গাতেও থাকবে। চীনের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চীনের মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা।

বাও আরও বলেন, এ ধরনের প্রকল্প খুবই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময়। পৃথিবী ও এর উপগ্রহের (চাঁদ) মধ্যে সহজবোধ্য এবং কম খরচের মহাকাশভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করবে চীন। ২০৩০ সালের মধ্যে মূল প্রযুক্তির নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আর ২০৪০ সালের মধ্যে যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্মাণ সম্ভব হবে। এ শতাব্দীর মাঝামাঝি নতুন এ ইকোনোমিক জোনে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার স্বপ্ন দেখছে চীন। ১৯৭০ সালে চীন প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে এবং ২০০৩ সালে মহাকাশচারী পাঠানোয় তৃতীয় দেশ।

সম্প্রতি চীন মহাকাশখাতে ব্যাপক গবেষণা ও সমীক্ষা চালাচ্ছে। গত জুলাইয়ে দেশটির একটি বেসরকারি কোম্পানি আই-স্পেস একটি রকেট সফলতার সঙ্গে উৎক্ষেপণ করে। এটি চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ শিল্পের প্রথম সফল রকেট উৎক্ষেপণ। এছাড়া ৩ জানুয়ারি চীনের একটি রোবটিক মহাকাশযান চ্যাং’ই ৪ সফলতার সঙ্গে চাঁদের দূরবর্তী স্থানে অবতরণ করে। এটাই বিশ্বের কোনও দেশের চাঁদের ওই অদেখা অংশে মহাকাশযান অবতরণের প্রথম ঘটনা।

এ অভিযানের জন্য বেশ কয়েক বছর ধরেই তৈরি হচ্ছিল চিন। চাঁদের এ অংশে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হল পৃথিবী থেকে সরাসরি মহাকাশযানের উপর নজর রাখা যায় না। এ সমস্যা সমাধানে গত বছরের মে মাসে চীন ‘ক্যুইকিয়াও’ নামে একটি উপগ্রহকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠায়। যার মাধ্যমে সঙ্কেত পৃথিবীতে পাঠানো যায়।

এছাড়া ২০২২ সালের মধ্যে মহাকাশে স্পেশ স্টেশনে বানাতে চায় চীন।  এ লক্ষ্যেই কাজ করছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। বেইজিং ২০১৩ সালে চাঁদে প্রথমবার মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। তার নাম ছিল ‘ইউটু’। সেই সময় ‘ইউটু’ ৩১ মাস চাঁদের মাটিতে সচল ছিল। ২০২০ সালে চীন মহাকাশযান ‘চ্যাং ই-৫’ পাঠিয়ে চাঁদের মাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *