দিল্লি­ দূষণের দোষ চীন ও পাকিস্তানকে দিলেন বিজেপি নেতা

ভারত

ভারতের রাজধানী নয়াদিলি­র বাতাসে ভয়ংকর দূষণের জন্য দায়ী পাকিস্তান ও চীন। এমনটাই দাবি করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক নেতা। দেশটির উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মেরঠের রাজনীতিক বিনীত আগরওয়াল শারদা বলেন, রাজধানী দিল্লিতে দূষিত গ্যাস ছেড়ে দিচ্ছে পাকিস্তান ও চীন। বিজেপি নেতা বলেন, ‘যে বিষাক্ত হাওয়া দিল্লিতে ঘুরছে, সে বিষাক্ত হাওয়া সম্ভবত ভারতের প্রতিবেশী দেশ থেকেই আসছে, যারা আমাদের ভয় পায়। আমার মনে হচ্ছে, পাকিস্তান ও চীন আমাদের ভয় পেয়েই আতঙ্কে এ কাজ করছে।’

এরপরই তিনি বলেন, ‘আমাদের এটা নিয়ে তদন্ত করা উচিত। পাকিস্তান বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।’ কিন্তু বিজেপি নেতা দূষণের জন্য চীন ও পাকিস্তানকে দায়ী করলেও তথ্য-উপাত্ত বলছে, বায়ুর গুনাগুণের দিক দিয়ে চীনের চেয়ে শোচনীয় অবস্থা ভারত। সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারভিজ্যুয়াল ও গ্রিনপিসের তথ্য মতে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ৩০ শহরের মধ্যে ২২টিই ভারতে। বাকী ৮টি শহর ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চীনের। কিন্তু ৩০টি শহরের মধ্যে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের নাম নেই। এর অবস্থান শেষের দিকে ১২২ নম্বরে। দূষিত শহরগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে নয়াদিলি­। এরপরেই ঢাকা। বাতাসের মানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। ভারতের দূষণ চীনের চেয়ে খারাপ হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে।

শীতের শুরুতেই প্রচণ্ড মাত্রার দূষণের কবলে ভারত। বিশেষ করে এর উত্তরের রাজ্যগুলো। রাজধানী নয়াদিলি­ এখন ‘গ্যাস চ্যাম্বার’। এই দূষণ নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এশিয়ার দেশগুলোর অন্যান্য শহরগুলোও। ধোয়া ও কুয়াশার জন্য গত কয়েক বছর ধরে চীনও বেশ আলোচিত। দেশের দূষণের জন্য নিজ সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করার বদলে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে বিজেপি নেতারা।

তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিজেপি নেতা বিনীত আগারওয়াল দাবি করেন, ভারতের দূষণের জন্য পাশ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান ও চীন দায়ী। তিনি আরও দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দেখে হতাশায় ভুগছে পাকিস্তান। তাই বদলা নেয়ার জন্য ভারতের রাজধানীর বাতাসে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দিচ্ছে পাকিস্তান। বিনীত বলেন, ‘পাকিস্তান জানে যুদ্ধ হলেই ভারতের কাছে হারবে তারা। মোদি ও অমিত শাহ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বে আসার পর থেকেই রীতিমতো হতাশায় ভুগতে শুরু করেছে পাকিস্তান।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *