উইঘুর মুসলিম নির্যাতন: স্বামীরা বন্দি, সরকারি কর্মকর্তাদের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করা হচ্ছে স্ত্রীদের

চীন লিড নিউজ

(বেইজিং, চীন) চীনে উইঘুর মুসলিম পুরুষরা আটককেন্দ্রে বন্দি। অন্যদিকে তাদের স্ত্রীদের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শয্যায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কখনও বাসাতেই আসে সরকারি কর্তারা। কখনও সরকারি কর্মকর্তাদের বাসায় ডেকে নেয়া হয়। এ সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিছানায় যেতে বাধ্য হয় নারীরা। বুধবার দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে উইঘুর মুসলিম নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে চীনের বিরুদ্ধে। বন্দিদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে দেশটি। এর আগে নারীদের গর্ভপাত ঘটাতে বাধ্য করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসময় কেউ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তারা এর চেয়েও আরও ভয়ংকর, ববর্র-পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। স্থানীয় মানবাধিকার গ্রুপ ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এগুলো সাধারণ ঘটনা। সরকার যে ব্যাপক নির্যাতন চালায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুসলমান নারীদের সন্তান জন্মদান ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর সম্প্রদায়ের বিবাহিত নারীরা (যাদের স্বামীরা বন্দী) তাদের বাড়ি পরিদর্শন করতে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘আমন্ত্রণ’ জানাতে বাধ্য। বিষয়টি গোপন রাখতে প্রয়োজন হলে এসব সরকারি পুরুষ কর্মকর্তাদের ‘আত্মীয়’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। রেডিও ফ্রি এশিয়াকে কমিউনিস্ট সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, দুই মাস পরপর সরকারি কর্তারা মুসলিম নারীদের বাসায় যান এবং দিন-রাত থাকেন। অনেক সময় টানা ছয়দিন পর্যন্ত তারা অবস্থান করেন। এসময় ওই নারীদের সঙ্গে একই বিছানায় রাত কাটান। একেঅপরের প্রতি ‘অনুভূতি উন্নয়নে’ মুসলিম নারীদের বাধ্য করা হয়।

চীনা সরকার তাদের এ কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘পেয়ার আপ অ্যান্ড বিকাম ফ্যামিলি’ (জোড় বন্ধন এবং পরিবার তৈরি)। কমিউনিস্ট সরকার ২০১৮ সালের শুরুর দিকে মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশে এ কর্মসূচি চালু করে বলে জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ প্রোগ্রামের আওতায় পুরুষ কর্মকর্তাদেরও ওইসব পরিবারের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হয়। কাশগার শহরের ইয়েঙ্গিশার কাউন্টিতে তার নিয়ন্ত্রণে ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *