সোনা নেন, টাকা দেন: গরু নিয়ে `গোল্ড লোন’র অফিসে কৃষক

ভারত

(কলকাতা, ভারত) সোনা বন্ধক দিলে ঋণ দেয় এক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সেই অফিসেই এক গরু আর এক বাছুর নিয়ে হাজির হলেন এক কৃষক। কর্মকর্তাদের বললেন, গরু নেন আর ঋণ দেন। বৃহষ্পতিবার হুগলির চণ্ডীতলার গরলগাছা এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। পেশায় চাষি সুশান্ত মণ্ডল একটি বড় গরু এবং একটি বাছুর নিয়ে চলে যান একটি গোল্ড লোনের অফিসে। তার দাবি, এই গরু আর বাছুর জমা রেখে তাকে ঋণ দেওয়া হোক। তিনি ব্যবসা বাড়াবেন। তার এই অভ্যুত এই কাজের জন্য অনুপ্রেরণা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, ২০টি গরু আছে সুশান্তবাবুর। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘কয়েক দিন ধরেই মিডিয়াতে দিলীপ ঘোষের কথা শুনেছি। উনি বলেছেন গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি আছে। তাতে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বেরোবে। তাই আমি গিয়েছিলা। লোন পেলে ব্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ওরা নিতেই চাইল না।’

গোল্ড লোনের দফতর থেকে বেরিয়ে ওই গোপালক সোজা চলে যান স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে। দাবি করেন ব্যবস্থা করে দেওয়ার। পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিংও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দিলীপঘোষের ওই কথার পর তাঁকেও এরকম ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর আগেও নাকি বেশ কয়েকজন তাকে গরু বন্ধক রেখে লোন পাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন।

সোমবার দিলীপ ঘোষ বর্ধমান টাউন হলে গাভী কল্যাণ সমিতির সভায় যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে। ওই জন্য গরুর দুধের রং সোনালি হয়।’ এখানেই থামেননি দিলীপবাবু। তার কথায়, ‌’দেশি গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বের হয়।’

ওই অনুষ্ঠানে দিলীপবাবু পরামর্শের সুরে বলেছেন, ‘জার্সি গরুর দুধে ভারতীয় গরুর মতো গুণ নেই। আমাদের দেশের গরু মায়ের মতো। আর বিদেশি গরু আন্টির মতো।” এরপর তিনি বলেন, “দেশি গরুর দুধে সব রকমের গুণ আছে। আমি অনেককে জানি, যাঁরা গরুর দুধ আর গঙ্গাজল খেয়ে বছরের পর বছর বেঁচে আছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *