আফগানিস্তানে আইএসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

আমেরিকা ইউরোপ এশিয়া প্যাসিফিক পূর্ব এশিয়া

(কাবুল, আফগানিস্তান) আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের উপস্থিতি ও এর কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। সেই সঙ্গে আইএস সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত নিরাপত্তা  ব্যবস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটি। এ লক্ষ্যে মধ্যএশিয়ার তাজিকিস্তান ও কিরঘিজিস্তানে নিজেদের সামরিক ঘাঁটিগুলো শক্তিশালী করছে তারা। খবর পার্স টুডের।

ইরাক ও সিরিয়ায় পরাজিত হওয়ার পর এখন আইএসের অবশিষ্ট সদস্যরা ওই এলাকা থেকে সরে গিয়ে আফ্রিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে প্রভাব বিস্তার ও নতুন করে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর আগেও রাশিয়া বহুবার আফগানিস্তানে আইএসের উপস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মস্কো জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাজিক সীমান্তের কাছে আইএস সন্ত্রাসীদেরকে জায়গা করে দেয়ার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে।

রুশ ফেডারেল সিকিউরিটি ব্যুরো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অফিসের প্রধান সের্গেই বাসদা বলেছেন, আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে আইএস সন্ত্রাসীদেরকে এনে জড়ো করার সাথে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার তথ্য আমাদের হাতে আছে। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে মধ্যএশিয়া ও আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা।

রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিনীরা আফগানিস্তানে তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আইএস সন্ত্রাসীদেরকে সরবরাহ করছে। এ কারণে তারা যত দ্রুত সম্ভব আমেরিকার এ ধরণের কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। রুশ কর্মকর্তারা বহুবার আইএস সন্ত্রাসীদেরকে অস্ত্রে সজ্জিত করার জন্য আমেরিকার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, আমেরিকা আফগানিস্তানের আইএস সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে যাতে সেদেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে জোরদার করা যায়।

আফগানিস্তানে আইএস সন্ত্রাসীদের তৎপরতা এবং এর প্রতি মার্কিন সমর্থনের ব্যাপারে সর্বশেষ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির প্রধান আলেক্সান্ডার বুরতানিকোভ। তিনি বলেন, আইএস সন্ত্রাসীরা মধ্যএশিয়ার দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছে এবং তাদের প্রতি আমেরিকার সমর্থন রয়েছে।

রাশিয়ার এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেছেন, আফগানিস্তানের খোরাসান প্রদেশে আইএসের উপস্থিতি রয়েছে এবং তাজিকিস্তানের জামায়াত আনসারুল্লাহ ও তুর্কিস্তান ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে আফগানিস্তান ভিত্তিক আইএসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানে আইএসের অভিন্ন লক্ষ্য ও স্বার্থ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *