কবিতায় বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানালেন মমতা

ভারত

(কলকাতা, ভারত) কবিতা লিখে ভারতের অযোধ্যার বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রতিক্রিয়া জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে এ কবিতায় অযোধ্যা, বাবরি মসজিদ ও সুপ্রিম কোর্ট- এ শব্দগুলোর একটিও উল্লেখ করেননি তিনি। আগেই তৃণমূলের নেতাদের এ স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা না বলতে নিষেধ করেছিলেন মমতা। তারা কথা রেখেছেন। তবে রায়ের পর দিনশেষে কবিতা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। খবর দ্য ওয়াল’র।

শনিবার ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ে বিরোধপূর্ণ ওই ভূমিতে হিন্দুদের জন্য মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেটা তদারকির জন্য একটি ট্রাস্ট গঠনের কথা বলা হয়। রায়ের তিন দিন আগে তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দলের বৈঠক ডেকে মমতাবলেন, ‘অযোধ্যা রায় স্পর্শকাতর বিষয়। রায় ঘোষণার পর কেউ এ বিষয়ে কথা বললেন না।’

শনিবার অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার পর দেখা গেল তৃণমূলের নেতারা কথা রেখেছেন। কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। তবে লিখে প্রকাশ করেছেন মমতা। কবিতায় মূল কথা হল—‘অনেক সময় কথা না বলেও অনেক কথা বলা যায়।’রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাবরি মসজিদ ইস্যুতে তৃণমূল কিছুটা উভয় সংকটে আছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালে সংখ্যাগুরুরা খুশি হবেন তবে সংখ্যালঘুদের ‘অন্য’ বার্তা যাবে। বড় কথা হল, বাংলায় সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকই তৃণমূলের অন্যতম রাজনৈতিক পুঁজি। তাই রায়কে স্বাগত জানানো তৃণমূলের পক্ষে রাজনৈতিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়া তৃণমূল হয়তো এও বুঝতে পারছে, এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে কোনও বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। এর পরেও উগ্র হিন্দু ভোট বিজেপির দিকেই থাকবে। তাই চুপ থাকলে উদার হিন্দু ভোট এবং সংখ্যালঘু শ্রেণি-এই দুই অংশকেই পাশে পাওয়ার আশা থাকবে।

মমতা ব্যানার্জি যখন এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন, তখন বিজেপি তাকে খোঁচা দেয়ার সুযোগ ছাড়তে চায়নি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, কোনো ভাল জিনিস ভালভাবে দেখতে পারে না তৃণমূল। তা সে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক বা কাশ্মিরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার। কারণ, তৃণমূলের তোষণের রাজনীতি করার তাগিদ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *