পাক প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কাশ্মীরের বিপদ জানালেন গিলানি

পাকিস্তান ভারত

কাশ্মীর, ভারত- ‘ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে বাড়ি বাড়ি ঢুকে যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে ভারতীয় সেনারা। পিলেট গান ব্যবহার করে কাশ্মীরি তরুণদেরকে অন্ধ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় নীতির আওতায় কাশ্মীরের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। নারীদের এমনকি পুরুষদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ভারতের দখলদার সেনারা বাড়ি বাড়ি ঢুকে তর্ক বিতর্ক করছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে লেখা মর্মস্পর্শী এক চিঠিতে এসব কথা বলেছেন কাশ্মীরের হুররিয়াত কনফারেন্সের নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলালি।

সম্প্রতি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত সরকার। এর ফলে বিশেষ মর্যাদা হারায় জম্মু-কাশ্মীর। এরপর থেকেই উত্তাল কাশ্মীর। থমথমে কাশ্মীরে পুলিশের সঙ্গে একের পর এক সংঘর্ষ লেগেই আছে। জম্মু-কাশ্মীরে রাজনৈতিক নেতাসহ কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে চলতি সপ্তাহে ইমরান খানকে চিঠি লেখেন আলী শাহ গিলালি। তিনি লিখেছেন, এটি হয়তো ইমরান খানের সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ হতে পারে। বয়স থাকে হয়ত আর যোগাযোগের সুযোগ দেবে না।

কাশ্মীর সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরায় এবং এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ায় ইমরান খানের প্রশংসা করেছেন আলী শাহ গিলালি।  চিঠিতে ইমরান খানকে উদ্দেশ করে গিলানি বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ব্যাপারে ভারত সরকারের অ’বৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং জম্মু-কাশ্মীরের নির্যাতিত নিপীড়িত জনগণের পক্ষে আপনি যেভাবে কথা বলেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে।

১৯৪৭ সাল থেকেই ভারতীয় দখলদারিত্ব ও অন্যায় আচরণ হতে মুক্তি লাভের জন্য রাজ্যের জনগণ বিভিন্ন পর্যায়ে সংগ্রাম করে এসেছেন। সেই থেকে কাশ্মীরের নারী, পুরুষ এবং শিশুরা সংগ্রামকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮, ২০১৮, ২০১০ ও ২০১৬ সাল মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।আলী শাহ গিলানি বলেনন, দিন দিন স্বাধীনতার এ সংগ্রাম জোরদার হয়েছে যা ভারত নস্যাৎ করতে ব্যর্থ।

ভারতের অবৈধ ইচ্ছা কাশ্মীরের জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে গিয়ে তারা ব্যাপকভাবে এ অঞ্চলে কারফিউ জারি করেছে। এজন্য তারা টেলিফোন এবং ইন্টারনেটসহ সব ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমকে বন্ধ করে দিয়েছে। হাজার হাজার শিশু, বৃদ্ধ, কিশোর, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, ছাত্র, ডাক্তার, হুররিয়াতের নেতা ও তাদের আত্মীয়-স্বজনকে আটক করা হয়েছে এবং ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। শত শত মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে।

মা-বাবার কাছে তাদের তরুণী মেয়েদের বয়স জানতে চাওয়া হচ্ছে এবং দখলদার বাহিনী জনগণের কাছে বলছে যে, তাদের আসল লক্ষ্য হচ্ছে কাশ্মীরের মুসলিম নারীদের অসম্মান করা। বহু মানুষকে হুমকি দেয়া হয়েছে যে, তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে এবং বহু মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়ার জন্য তাদেরকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *