ভারতের বিহারে ফের মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

ভারত

(বিহার, ভারত) ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে ফের মুসলিম গরু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজ্যের কাটিহার জেলায় মঙ্গলবার বাজারে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ জামাল নামের এক ব্যক্তিকে খুন করে একদল উন্মত্ত গোরক্ষক। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে গ্রামবাসী। ৪০ বছর বয়সী জামাল কাটিহার জেলার হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনার মাত্র চার মাস আগে বিহার রাজ্যে গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া আরও চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তিকে গরু নিয়ে যেতে দেখে ঘিরে ধরে কয়েকজন গোরক্ষক। তারা হুমকি দিয়ে বলে, ‘গরু পাচার করে নিয়ে যাচ্ছিস। পরিস্থিতি ভয়ংকর হবে। টাকা দে। না হলে ছাড় পাবি না।’ ওই ব্যক্তি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ধরে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার জামাল ও তার ভাই গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন পাশের এক রাজ্যের বাজারে। কাটিহারের লাভা ব্রিজের কাছে পৌঁছাতেই তাদের দু’জনকে ঘিরে ধরে দুর্বৃত্তরা। এদের একজনের নাম সাগর যাদব। সাগর ও তার দলবল জামাল ও তার ভাইয়ের থেকে মোটা টাকা দাবি করতে থাকে। কিন্তু জামাল টাকা দিতে অস্বীকার করলে সেখানেই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার ভাই অবশ্য ঘটনাস্থল থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। লাশ কাটিহার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য।

পুলিশ আরও জানায়, সাগরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কাটিহার সদরের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) অনিল কুমার জানান, সাগর যাদব ও তার সঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। জামাল পেশায় গরু ব্যবসায়ী। ভিন্ রাজ্যে গরু পৌঁছে দিতেন তিনি। সেইমতো মঙ্গলবারও তিনি প্রতিবেশী এক রাজ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেইসময়ই এই ঘটনা ঘটে যায়।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম পূবের কলম জানিয়েছে, অন্যান্য গণপিটুনির ঘটনার ক্ষেত্রে সচরাচর যা দেখা যায় না মঙঙ্গলবারের ঘটনায় সেটা হয়েছে। এর আগে একাধিক মর্মান্তিক ও নৃশংস লিঞ্চিংয়ের ঘটনা ঘটলেও বিজেপি-আরএসএস শিবিরের কট্টর নেতা-সমর্থক ও গোরক্ষকদের ভয়ে কেউ মুখ খুলত না। জামালের খুনের প্রতিবাদে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে।

৩১ নম্বর কাটিহার-গিরাবাড়ি জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। নিহতর পরিবারকে ২৫ লক্ষ রুপি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানাতে থাকেন। একইসঙ্গে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সরব হন। প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিন ঘণ্টা পর অবরোধ উঠে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *