ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

(তেহরান, ইরান) ইরানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দুই দিনের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই বিক্ষোভ আরও উসকে দিচ্ছে ইরানের ‘জানের শত্রু’ যুক্তরাষ্ট্র। বিক্ষোভরত ইরানি নাগরিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ঘোষণা করেন। টুইটারে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেড় বছর আগেই আমি ইরানি জনগণকে বলেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের সঙ্গে আছে।’ খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

বিক্ষোভ উসকে দিতে ইরানি জনগণের উদ্দেশে ফার্সি ভাষায় আরেকটি টুইট করেন মাইক পম্পেও। এতে তিনি বলেন, ৪০ বছরের অত্যাচারের পরেও ইরানি জনগণ তাদের সরকারের আপত্তি সম্পর্কে চুপ করে থাকতে পারে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরাও চুপ থাকব না। ইরানের জনগণের জন্য আমার একটি বার্তা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের কথা শুনে। যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের সমর্থন করে। মার্কিন সরকার আপনাদের সঙ্গে রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানিয়েছেন, রোববার পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির ফলে ইরান জুরে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে আর এসবের পেছনে ইসলামি রিপাবলিক বিরোধী এবং বিদেশি শত্রুদের ষড়যন্ত্র রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, কিছু লোক নিঃসন্দেহে এ সিদ্ধান্তে চিন্তিত … তবে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ আমাদের লোকজন নয়, গুণ্ডারা করেছে। পাল্টা বিপ্লব, নাশকতা ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনকে ইরানের শত্রুরা সবসময় সমর্থন করেছে এবং এখনও অব্যাহত রেখেছে।

শুক্রবার ইরান সরকার পেট্রলের মূল্য ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা জালানি মজুদ থাকা একটি গুদামে হামলা চালিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন মারা যায়।

এ ছাড়া রাজধানী তেহরানসহ কেরমানশাহ, ইসফাহান, তাবরিজ, করদজ, শিরাজ, ইয়াজদ, বোশেহর ও সারি শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। অনেক শহরে ক্ষুব্ধ গাড়িচালকরা রাস্তার মাঝখানে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বা গাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। সে সময় সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধরা। সিরজান শহরে পুলিশের গাড়িতে আগুন‌ও দেয়া হয়েছে।

রবিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে অন্তত ৪০টি শহরের রাস্তায় নামে বিক্ষুব্ধরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে তাদেরকে ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদোলরেজা রাহমানি ফাজলি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করেছেন, বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করলে শান্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *