বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষে হংকং ফের যুদ্ধক্ষেত্র

চীন লিড নিউজ

(হংকং, চীন) হংকংয়ে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের রাস্তা যুদ্ধক্ষেত্র রুপ নিয়েছে। শহরের কেন্দ্রে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সোমবার ভোর থেকে সংঘর্ষ ও সহিংসতা শুরু হয়। রাস্তায় ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা ও তীর ছুড়ে মারে আন্দোলনকারীরা। এতে হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির প্রবেশপথে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জবাবে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছুড়বে। খবর বিবিসির।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে ক্যাম্পাস দখলে রাখা বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্পাস ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে শনিবার চীনা সেনারা টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট পরে রাস্তায় বিক্ষোভের ধ্বংসস্তূপ পরিস্কার করে এবং ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম হংকংয়ে থাকা চীনা সেনাদের রাস্তায় দেখা গেলো। সাধারণত তারা ব্যারাক ছেড়ে বের হয় না।

এক সময়ের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।

আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতার দাবি। সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীদের চীনবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

কয়েক মাস ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ফলে হংকং-এ অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে চীনা নিয়ন্ত্রণাধীন আধা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। গত কিছুদিন ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে পুলিশ।

কয়েকদিন ধরেই হংকং-এর পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। রবিবার নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের টিয়ার গ্যাস ও জল কামানের হামলার জবাব দেয় পেট্রল বোমা, ইট ও তীর নিক্ষেপ করে।

সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্পাসের দখল নেওয়ার জন্য পুলিশ অগ্রসর হতে শুরু করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা ছুড়লে ক্যাম্পাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ সংঘর্ষ চলার পর পুলিশ পিছু হটে। ক্যাম্পাসের ভেতরে এখনও শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দখল নিয়ে রাখা শিক্ষার্থীদের রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বলা হলেও অনেকেই এখনও ক্যাম্পাসে রয়েছেন।

পুলিশের মুখপাত্র লুইস লাউ এক ফেসবুক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘তারা যদি পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা, তীরের মত বিপজ্জনক অস্ত্র ছুড়ে মারা অব্যাহত রাখে; তাহলে গুলিবর্ষণ ছাড়া পুলিশের জন্য আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *