এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না পেলে বিকল্প খুঁজবে তুরস্ক: এরদোয়ান

আমেরিকা ইউরোপ লিড নিউজ

(আঙ্কারা, তুরস্ক) যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না দিলে বিকল্প খুঁজবে তুরস্ক। মঙ্গলবার এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের প্রতি এই হুশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেন, এফ ৩৫-এর বিষয়ে কোনও মীমাংসা না হলে বিকল্প খুঁজবে তার দেশ। এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনায় দীর্ঘদিন ধরে তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির পার্লামেন্টারি গ্রুপের বৈঠকে এ নিয়ে কথা বলেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বিরোধ অব্যাহত থাকলে তুরস্ক তার প্রতিরক্ষা চাহিদা মেটাতে অন্য কোথাও যেতে বাধ্য হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে বিষয়টি তাকে জানিয়ে দিয়েছি।’

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজ দেশের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজের পূর্বসূরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দায়ী করেন।

ট্রাম্প বলেন, ওবামা প্রশাসন তুরস্ককে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কিনতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তুরস্ককে রাশিয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের ১২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর প্রথম চালান গ্রহণ করে তুরস্ক। রাজধানী আঙ্কারার একটি বিমান ঘাঁটিতে এ চালানটি পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি একটি নিরাপত্তা হুমকি।

যুক্তরাষ্ট্র চায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে তুরস্ক মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা কিনুক। তবে তুরস্ক বলে আসছে, এফ-৩৫ ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আলাদা অবস্থানে থাকবে। ২৯ সদস্যের সামরিক জোট ন্যাটো’র দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী তুরস্কের। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্কের অবস্থান কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে দেশটির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *