হংকং বিক্ষোভ সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে সর্বসম্মত বিল পাস

চীন লিড নিউজ

(ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র) হংকং বিক্ষোভ ইস্যুতে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে মঙ্গলবার সর্বসম্মতভাবে পাস হয় বিলটি। বিলটিতে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে মানবাধিকারের সুরক্ষার বিষয়ে মার্কিন সমর্থনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা কর্তৃপক্ষের দমনপীড়ন থেকে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় এ বিল পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ছয় মাস ধরে অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

সিনেটে কণ্ঠভোটে পাস হয় ‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি অ্যাক্ট’ নামের বিলটি। এখন প্রতিনিধি পরিষদের তোলা হবে বিলটি। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেলে এটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে।

কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ চললেও সম্প্রতি হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার ভোর থেকেই হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। এক পর্যায়ে ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রোল বোমা ও তীর ছুড়ে মারে আন্দোলনকারীরা। এতে ইউনিভার্সিটির প্রবেশপথে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভরতদের ওপর গুলি ছুড়বে। এমন পরিস্থিতিতেই পার্লামেন্টে বিল এনে হংকং-এর বাসিন্দাদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে সমর্থনের অঙ্গীকার করে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন আহ্বান জানানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যে কোনও সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।

ফেদেরিকা মোঘেরিনি বলেন, সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা নিরসনের প্রচেষ্টায় সব গঠনমূলক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপগুলো অবশ্যই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। হংকং-এর বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারগুলোর সুরক্ষা অবশ্যই বহাল রাখতে হবে।

এদিকে হংকংয়ের বিক্ষোভে সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং। লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি মনে করি হংকং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুব চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এই অস্থিরতা থামানোর মতো পর্যাপ্ত সমাধান ও ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

চীনপন্থী রাজনীতিক ও হংকং আইন পরিষদের সাবেক প্রধান জেসপার সাং বলেছেন, হংকং-এর বিক্ষোভকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তর করা হবে! আর বেইজিং চেয়ে চেয়ে তা দেখবে! এমনটা হবে না। পরিস্থিতি দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *