শিশু যৌন কেলেঙ্কারিতে রাজদায়িত্ব ছাড়লেন ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু

ইউরোপ

(লন্ডন, ব্রিটেন) ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রু। মার্কিন বিলিয়নার ও শিশু যৌন নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও এক অল্পবয়স্কা কিশোরীর সঙ্গে যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার ছেলে অ্যান্ড্রুকে রাজদায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানীর দ্বিতীয় সন্তান ও ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রু বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সস্পর্ক নিয়ে সৃষ্ট কেলেঙ্কারি রাজ পরিবারের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। তাই রাণীর অনুমতি নিয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। খবর দ্য টাইমসের।

নাবালিকাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, মেয়ে পাচার ও নারীঘটিত অন্যান্য অপরাধ ছিল তার জীবনের নিত্যসঙ্গী। এর মধ্যে শিশু–কিশোরী পাচার ও জোর করে যৌনদাসীর কাজ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনে সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগ। এসব নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু। ডিউক অব ইয়র্ক স্বীকার করে নিয়েছেন, যা করেছেন তা উচিত হয়নি। তার আচরণ রাজপরিবারের মুখ পুড়িয়েছে। তবে অল্পবয়স্কা এক নাবালিকার সঙ্গে যৌনতায় মিলিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

২০১৫ সালে ফ্লরিডার আদালতে এপস্টাইনের বিরুদ্ধে চলা একটি মামলার সূত্রে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ভার্জিনিয়া রবার্টস নামে এক নারী। অভিযোগে তিনি জানান, ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে তাকে তিন-তিন বার জোর করে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। একবার লন্ডনে, একবার নিউইয়র্কে ও আরেকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত একটি ক্যারিবীয় দ্বীপে।

ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী সেই সময়ে ভার্জিনিয়া ছিলেন নাবালিকা। অভিযোগ, মার্কিন পুঁজিপতি এপস্টেইন দেশ-বিদেশের প্রভাবশালীদের হাতে রাখতে এ ভাবেই ‘যৌনদাসী’ জোগান দিতেন। ভার্জিনিয়ার কোমর জড়িয়ে অ্যান্ড্রুর ছবি প্রকাশ্যে আসায় সেই অভিযোগ আরও পোক্ত হয়। এপস্টাইনের ম্যানহাটনের বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে  অ্যান্ড্রুর এক তরুণীর দিকে হাত নাড়ার ছবিও সেই সময়ে প্রকাশ হয়েছিল।

সবকিছু মিলিয়ে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তানের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের অভাব ছিল না কখনও। ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে এপস্টেইনের সঙ্গে তোলা অ্যান্ড্রুর একটি ছবি প্রকাশিত হয়। আর তার দেই বছর আগেই এক নাবালিকাকে প্রকাশ্যে পতিতাবৃত্তিতে নামার প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে জেল খেটেছেন এপস্টেইন। এমন কুখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে প্রিন্সের ঘনিষ্ঠতা কোনও দিন স্বীকার করেনি পরিবার। অবশেষে এপস্টেইনের মৃত্যুর তিন মাস পর নীরবতা ভাঙলেন অ্যান্ড্রু নিজেই।

অগস্টে নিউইয়র্কের একটি জেলে উদ্ধার হয় ৬৬ বছরের এপস্টাইনের লাশ। তদন্তে দাবি করা হয়, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে আত্মঘাতী হন তিনি। কিন্তু আত্মহত্যা নাকি খুন সে ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে বিভিন্ন মহলে। এর পর-পরই ফের এপস্টেইন-অ্যান্ড্রু সম্পর্ক নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। ব্রিটিশ চ্যানেলের নেয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টাইনের সঙ্গে তার মেলামেশার কথা স্বীকার করেন প্রিন্স। রানির অনুমতি নিয়ে বাকিংহাম প্যালেসে বসেই নেওয়া হয় এই সাক্ষাৎকার। যদিও এত কিছুর পরেও ভার্জিনিয়ার ‘কথা’ মনেই করতে পারলেন না তিনি।

ভার্জিনিয়ার দাবি অনুযায়ী, ২০০১ সালে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে নৈশাহার সেরে তারই এক বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটিয়েছিলেন দুজনে। সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গ ওঠায় অ্যান্ড্রু বলেন, ‘‘এই নারীর সঙ্গে কখনও, কোথাও দেখা হওয়ার কথা মনে করতে পারছি না।’ অ্যান্ড্রু বলেন, ‘আপনি যদি পুরুষ হয়ে থাকেন, তাহলে কারও সঙ্গে সেক্স করাটা একটি ইতিবাচক কাজ। আর কোনো ইতিবাচক কাজ ভুলে যাওয়াটা খুব কঠিন। কিন্তু এমন কিছু আমার মনে পড়ছে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *