ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ উল্লেখ করে মানচিত্র প্রকাশ চীনের

চীন ভারত

(বেইজিং, চীন) ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের বলে দাবি করছে চীন। রাজ্যটিকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ উল্লেখ করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে বেইজিং। অরুণাচল প্রদেশকে দীর্ঘ দিন ধরে তিব্বতের দক্ষিণাংশ হিসেবে দাবি করে আসছে বেইজিং। ইতিমধ্যে ৫০-৬০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছে বলে সম্প্রতি বিজেপির এমপি জানিয়েছেন। ভারতের এই রাজ্যে দেশের নেতারা সফরে গেলেও আপত্তি জানিয়েছে চীন।

১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকে ‘ম্যাকমোহন লাইন’ প্রশ্নে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে যে তারা অরুনাচল প্রদেশের চীনা এলাকায় ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্ণখনির সন্ধান পেয়েছে এবং সেখানে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান কয়েকটি নদীর উৎসমুখে ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনাও করছে। বিজেপির এমপি তাপির গাও হুশিয়ারি দিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের পরবর্তী ‌’ডোকলাম’ হতে পারে।

সীমান্তের ৩৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে দু দেশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২১ বার বৈঠক হয়েছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ তাইওয়ানকেও নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করছে চীন। চলতি বছরের মার্চে অরুণাচল প্রদেশ ও তাইওয়ানের চীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে না দেখানোয় ৩০ হাজার ম্যাপ নষ্ট করেছে চীন।

এছাড়াও উত্তেজনা বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদী নিয়েও। এই নদীর প্রবাহে প্রভাব পড়ে, এমন আরো ড্যাম নির্মাণ করার কথা চীন অস্বীকার করেছে। কিন্তু তারা ব্রহ্মপুত্রে প্রথম ড্যাম নির্মাণের কথাও অস্বীকার করেছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে তারা তা সম্পন্ন করে ফেলে। উভয় দেশ আরো বেশি জাতীয়তাবাদী হয়ে পড়ায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাই বেশি।

হিমালয়ের ওপর দাবি জোরদার করার জন্য চীনা সরকার ওই এলাকায় হ্যান চীনাদের বসতি স্থাপনকে উৎসাহিত করছে। তিব্বত মালভূমির ওপর চীনা সামরিক নিয়ন্ত্রণ থাকায় দেশটি এখানেও দক্ষিণ চীন সাগর নীতি অবলম্বন (ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা) করে তার আধিপত্য বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে।

প্রাচীন কাল থেকে চীন সবসময় তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হিমালয় ও তিব্বতকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এসেছে। কারণ সামরিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো উচ্চ ভূমি দখল করা। হিমালয় হলো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বতমালা। ঐতিহাসিকভাবে তিব্বতকে চীন ম্যান্ডারিন ভাষায় ‘জিজাং’ বা ‘পশ্চিম দিকের গুদামঘর’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।

চীন ও ভারত উভয়ের জন্যই কিংগাই-তিব্বত মালভূমি একটি গুরুত্বপূর্ণ পানিসম্পদ উৎস। শক্তিশালী ইয়াংজি নদী ও পীত নদী উভয়ের পানি উৎস তিব্বতের হিমবাহগুলো ও হিমালয়ের বরফগলা পানি। ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও সিন্ধু নদীর পানির উৎসও তিব্বতের হিমবাহ ও হিমালয়ের বরফগলা পানি। ব্রহ্মপুত্র ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। চীন এখানেই কয়েকটি ড্যাম নির্মাণ করছে পানিপ্রবাহ সীমিত করার জন্য। এতে করে ভারত ও চীনের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *