নরওয়েয় জনসম্মুখে পবিত্র কুরআন পুড়ানোর চেষ্টা, প্রতিবাদ করে হিরো যুবক

ইউরোপ লিড নিউজ

(অসলো, নরওয়ে) জনসম্মুখে পবিত্র কুরআন জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে এক ব্যক্তি। তার চোখে-মুখে মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষ ঠিকরে বেরুচ্ছে। পাশেই দাঁড়িয়ে বহু মানুষ, পুলিশও। কিন্তু কেউই তাকে থামাচ্ছে না। হঠাৎ তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পবিত্র কুরআন রক্ষা করেন এক যুবক। চলতি সপ্তাহে নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরে ঘটে এই ঘটনাটি। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যুবকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে মুসলিমবিশ্ব। তাকে অনেকেই ‘হিরো অব দ্যা মুসলিম’বলেও অভিহিত করছে।

আাদোলু এজেন্সি জানায়, গত সপ্তাহে ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দেয় নরওয়ের উগ্র ডানপন্থী ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠী ‘স্টপ দ্য ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে’ (এসআইওএন)। বিক্ষোভকালে পবিত্র কুরআন জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে গোষ্ঠীটি।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্কতা সত্ত্বেও ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরে পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থারসন নামের এক অমুসলিম। এর মাঝে পবিত্র কোরআন বাঁচানোর জন্য ব্যারিকেড সার্কেল ভেদ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে থারসনকে বাধা দেয় ইলিয়াস নামের এক মুসলিম যুবক। পুলিশ ইলিয়াসকে আটক করে।

ইলিয়াসের বিস্তারিত কোনো পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ইলিয়াসের প্রশংসা করে স্যোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে ইসলামফোবিয়া তথা ইসলাম বিদ্বেষের উত্থানের বিষয়ে সতর্ক করতেও স্যোশ্যাল মিডিয়ায় সরব থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম কয়েকটি সংগঠন।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান ইউনিয়ন নরওয়ে (প্যান) এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে করেছে। প্যান এর চেয়ারম্যান চৌধুরী কামার ইকবাল বলেন, একজন ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের অবমাননা করে মুসলমানদের অনুভূতিতে আ’ঘাত করেছে। তিনি আরও বলেন, নরওয়েজিয়ানরা শান্তিপূর্ণ মানুষ, মুসলিমরাও এখানে শান্তিতে বসবাস করছিল, যদিও ইদানিং ইসলামফো’বিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তারপরও নরওয়ে অন্যান্য ধর্মের অধিকারকে সম্মান করায় তারা বিশ্বজুড়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।

কামার ইকবাল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটেছে এবং পুলিশ এটিকে থামাতে কিছুই করেনি। এজন্য তিনি পুলিশের নিন্দা করে বলেন, ইলিয়াস যখন কোরআন অবমাননা বন্ধ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তখনও তারা নিরব ছিল। পরবর্তিতে অন্যান্য আন্দোলনকারীরা তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।

প্যান চেয়ারম্যান নরওয়ে সরকারকে উগ্রপন্থার মাধ্যমে অন্য ধর্মের অবমাননার দায়ে ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আ’ঘাত করার দায়ে অভিযুক্তদের অবিলম্বে বিচারের দাবি জানান। এদিকে উ’গ্রবাদী কুরআন অবমাননার ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক, পাকিম্তানসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ। দেশগুলো বলছে, পবিত্র কুরআনের অবমাননা অগ্রহণযোগ্য, কিছুতেই এই সীমালঙ্ঘন মেনে নেয়া যায় না।

১৯৬০ এর দশকে প্রথম নরওয়েতে মুসলমানদের অবস্থান দৃশ্যমান হতে থাকে। ১৯৭৪ সালে রাজধানী অসলোতে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয়। বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলমান। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতিই নরওয়েতেও ইসলাম বিদ্বেষ বাড়ছে। ইসলামিক সংগঠন ‘স্টপ দ্যা ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে’কে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য নরওয়ে-সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *