মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খোলা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা

এশিয়া প্যাসিফিক বাংলাদেশ লিড নিউজ

(ঢাকা, বংলাদেশ) বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা ফের হোঁচট খেয়েছে। এ নিয়ে ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির যে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল, কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে আচমকা তা স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকের নতুন তারিখ ঘোষণা হয়নি এখনও। খবর মানব জমিনের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের তরফে বৈঠকের পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু মালয়েশিয়া বৈঠকটি স্থগিত করে কোনো কারণ না জানিয়েই। ফলে কবে নাগাদ বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল। পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কী কারণে বৈঠকটি স্থগিত হলো তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

কূটনৈতিক একটি সূত্র অবশ্য দাবি করেছে- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের নিয়ন্ত্রণ পেতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের একাধিক সিন্ডিকেট চেষ্টা করছে। তারা মালয়েশিয়ান সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেনদরবার করছে। বৈঠক স্থগিতের পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈঠকে নতুন তারিখ পেতে বাংলাদেশের তরফে চেষ্টা চলছে জানিয়ে কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, জনশক্তি আমদানি তথা বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে কুয়ালালামপুরের কিছু কাজ বাকী রয়েছে বিধায় তারা তা শেষ করেই বৈঠকটি করতে চায়। সেটি শ্রম নিয়োগের স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত। ফলে তারা কিছুটা সময় নিচ্ছে হয়তো। তবে কবে নাগাদ বৈঠকটি হতে পারে সেই ধারণা এখনো পাননি বলে দাবি বাংলাদেশ দূতের।

গত ৬ই নভেম্বর মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলা সেগারেনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। মন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, অভিবাসন ব্যয় কমাতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের দেশ ছাড়ার আগেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। কোন বিশেষ সিন্ডিকেট নয়, অধিক সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া করতে পারবে। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যেসব বিষয় আলোচনা হয় তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ, কর্ম পরিবেশসহ সংশ্লিষ্ট খুঁটিনাটি বিষয় চূড়ান্ত করতে ২৪ ও ২৫শে নভেম্বর ঢাকায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হবে।

দেশে ফিরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, কুয়ালালামপুর বৈঠকে মোটাদাগে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের বিষয়ে দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে কর্মীদের সুরক্ষায় ‘সেভিং স্কিম’ গঠনের বিষয়ে দুই পক্ষের কিছু রিজারভেশন এখনো আছে। সেই মতপার্থক্য দূর হবে ঢাকার বৈঠকে। মালয়েশিয়া প্রস্তাব করেছে কর্মীদের বেতনের ২০ শতাংশ ওই স্কিমের আওতায় জমা থাকতে হবে। তারা দেশে ফেরার সময় জমা করা অর্থ তুলতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশের তরফে তখন বলা হয়- ২০ শতাংশ জমা রাখলে কর্মীদের দেশে থাকা পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাবে। ফলে তারা বেতনের সাড়ে চার শতাংশ জমা করবেন।

ওই অবস্থায় ঢাকার বৈঠকে এটি চূড়ান্তকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল কুয়ালালামপুরের বৈঠকে। কিন্তু ঢাকার বৈঠকটিই ঝুলে গেল। স্মরণ করা যায়- সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি প্লাস) ২০১৭ ও ১৮ সালে প্রায় পৌনে তিন লাখ কর্মী মালয়েশিয়া গেছেন। সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও কর্মী প্রতি সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো। এরা এজেন্সি-সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত।

এ অবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতিতে ক্ষুব্ধ মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন দেশটির নতুন সরকার জিটুজি প্লাস পদ্ধতি বাতিলসহ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের পর সবেচয়ে বড় ওই শ্রমবাজারের দ্বার খোলার জন্য নতুন সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে ঢাকার কূটনীতিক, কর্মকর্তা এবং মন্ত্রী পর্যায়ে। কোন সিন্ডিকেট নয়, বরং ন্যায্য ব্যয়ে যাতে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীরা যেতে পারেন সেই ঘোষণার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় গোটা দেশের শ্রমজীবীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *