ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ভয়াবহ দুর্নীতি: কুরআন ও ধর্মীয় বই ছাপানোর নামে ১৭ কোটি টাকা লোপাট

বাংলাদেশ লিড নিউজ

(ঢাকা, বাংলাদেশ) ভয়াবহ দুর্নীতি ও টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা)। কুরআন ও অন্যান্য ধর্মীয় বই ছাপানোর নামে ১৭ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। কুরআনের কপি কম ছাপিয়ে, আরবি ভাষা শিক্ষার টিচার্স গাইড ও উগ্রবাদবিরোধী বই না ছাপিয়েও বইয়ের রয়্যালিটির নামে বিশাল এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ কপি কুরআন শরিফ কম ছাপিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। এসব দুর্নীতির ঘটেছে ইফার মহাপরিচালক (ডিজি)সামীম মোহাম্মদ আফজল তত্ত্বাবধানে। সিভিল অডিট অধিদফতরের বিশেষ নিরীক্ষায় ভয়াবহ এই দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

নযা দিগন্ত জানিয়েছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা)২০০৯-২০১৮ অর্থ বছরের ১০ বছরের এই নিরীক্ষায় ৯৬টি খাতে সর্বমোট ৭৯৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অনিয়ম ধরা পড়েছে। তার মধ্যে কুরআন শরিফ মুদ্রণসহ পাঁচটি খাতে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারিক কর্মকর্তা সামীম মোহাম্মদ আফজল ২০০৯ সাল থেকে ইফার ডিজির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার সর্বশেষ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হবে।

গত ৯ জুলাই ’১৯ থেকে ১০ অক্টোবর ’১৯ পরিচালিত এই নিরীক্ষার খসড়া রিপোর্টটি গত ২৪ নভেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ে এগ্রিড মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং অডিট সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিভিল অডিট অধিদফতরের উপ-পরিচালক এম এম নিয়ামুল পারভেজের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টিম এই নিরীক্ষা পরিচালনা করে। এতে ইফার ১২টি কার্যালয়ের ২০০৯-১৮ সালের বরাদ্দ ও ব্যয় খতিয়ে দেখা হয়।

অডিট টিমের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, ইফার বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। তবে ফেরত দেয়া অর্থ সমন্বয় করা হয়েছে। আরো কিছু ফেরত পেলে তাও সমন্বয় করা হবে। ইতোমধ্যেই এগ্রিড মিটিং হয়ে গেছে। ওখানেই খসড়া রিপোর্টটিই চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছোটখাট কিছু পরিবর্তন করে চূড়ান্ত রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া প্রক্রিয়াধীন। রিপোর্টে অনিয়মের পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

নিরীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদনে ইফার ১৩৪টি খাতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে ইফার জবাব চাওয়া হয়। এরপর ইফা ডিজির পক্ষ থেকে কয়েক দফায় প্রায় ৮২ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়াসহ জবাব দেয়া হয়। জবাবগুলো আবার খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইফার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসে অডিট টিম এবং সেটি চূড়ান্ত করা হয়। এতে অনিয়মের খাতের সংখ্যা কমে আসলেও অনিয়মের টাকার অংকে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *