ছেলে দোষী হলে তাকেও পুড়িয়ে মারা হোক: ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের মা

ভারত লিড নিউজ

(তেলেঙ্গানা, ভারত) ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত এক আসামির মা বলেছেন, তার ছেলে দোষী হলে তাকেও পুড়িয়ে মারা উচিত। গত বৃহস্পতিবার হায়দ্রাবাদের এক চিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর নৃশংসভাবে তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, হত্যার প্রায় ৩ ঘণ্টা আগে ওই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তরুণীর স্কুটারের চাকা ফুটো করে দিয়েছিল ঘাতকরা। চাকা ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে জোরপূর্বক তার স্কুটার সরিয়ে ফেলে তারা। পরে ধর্ষণের আগে ওই তরুণীর মুখ বন্ধ করে তার গলায় মদ ঢেলে দেয় অভিযুক্তরা। তারপর চারজন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তাকে। শেষে খুন করে পেট্রল-ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দেয় মরদেহ।

২৭ নভেম্বরের এ ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই ১ ডিসেম্বর এ নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার আদালতেই এ মামলার বিচার সম্পন্ন হবে। এর মধ্যেই নৃশংসতার শিকার ওই তরুণীর মা আগেই খুনিদের পুড়িয়ে মারা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এরপর রবিবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক অভিযুক্তের মাকেও একই দাবি তুলতে দেখা যায়। ওই নারী বলেন, ‘আমার ছেলে দোষী হলে তাকেও পুড়িয়ে মারা উচিত। নিহত তরুণীও তো কারও মেয়ে। এখন আমি কষ্ট পাচ্ছি। বুঝতে পারছি, ওই তরুণীর মা কতটা কষ্ট পাচ্ছেন।’  তবে তিনি কোন অভিযুক্তের মা তা স্পষ্ট নয়। অন্য এক অভিযুক্ত চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলুর মা-ও বলেছেন, ‘ওকে উপযুক্ত শাস্তি দিন। আমারও মেয়ে আছে।’ আরেক অভিযুক্ত জল্লু শিবার মা বলেছেন, ‘যা করা প্রয়োজন বলে মনে হয়, তা-ই করুন। ঈশ্বর জানেন কী হবে।’

পুলিশ জানিয়েছে, চার অভিযুক্তের মধ্যে দু’জন পেশায় ট্রাকচালক। বাকি দুজন ট্রাক থেকে মাল খালাসের কাজ করে। তবে চেন্নাকেশভুলুর মা জানিয়েছেন, তার ছেলে অসুস্থ। তাই ছয় মাস ধরে সে তেমন কাজকর্ম করছে না। তার আর এক আত্মীয় বলেন, ‘ও গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আমরা মুখ দেখাতে পারছি না।’

ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিক্ষোভের জেরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে আন্দোলনকারীদের। শামশাবাদের যে কলোনিতে নিহত তরুণী থাকতেন শনিবার সেখানকার মূল ফটকে তালা দিয়ে দেন বাসিন্দারা। রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, সংবাদমাধ্যমকে ঢুকতে না-দেওয়ার সমর্থনে প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।

সাবেক সিপিএম বিধায়ক জে রঙ্গা রেড্ডি ও তার সমর্থকেরা কলোনিতে ঢুকতে না-পেরে মূল ফটকের বাইরে ধর্নায় বসে পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে অবশ্য তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কংগ্রেস দলীয় এমপি এ রেবন্ত রেড্ডি। কলোনির বাসিন্দা এক নারীর প্রশ্ন, ‘এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও টুইট করলেন না কেন?’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও বলেছেন, ‘এ এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দ্রুত বিচার হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *