সরকারের নতুন পেনশন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ধর্মঘটে অচল ফ্রান্স

ইউরোপ লিড নিউজ

প্যারিস, ফ্রান্স- ফ্রান্সের গণপরিবহন নেটওয়ার্ক প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানী প্যারিসের রেল ও মেট্রো স্টেশনগুলোও এখন জনশুন্য। গন্তব্যে যেতে বাইসাইকেলই ভরসা। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারে প্রস্তাবিত সার্বজনীন পয়েন্টভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থাপনায় নাখোশ বিভিন্ন ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ ধর্মঘট পালন করছে। কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে এটাকে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধর্মঘট দাবি করছেন পর্যবেক্ষকেরা। খবর আলজাজিরার।

দেরিতে অবসর কিংবা কম পেনশন নিতে বাধ্য করার প্রতিবাদে পেশাজীবী ও শ্রমিকদের ডাকা এ ধর্মঘটে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধর্মঘটে পুলিশ, আইনজীবী, হাসপাতাল ও বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষক এবং পরিবহন শ্রমিকরাও অংশ নিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা জনদুর্ভোগ হ্রাসে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। শিল্পখাতের শ্রমিকদের ধর্মঘট অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে বলে বেশকিছু ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা আভাস দিয়েছেন। পেনশন ব্যবস্থাপনার সংস্কার নিয়ে ম্যাক্রোঁ তার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা না পর্যন্তও এ ধর্মঘট চলতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

ধর্মঘটের পক্ষে ৬৯ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন আছে বলে এক জনমত জরিপে দেখা গেছে; সমর্থকদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যাই বেশি। ১৯৯৫ সালেও পেনশন ব্যবস্থা সংস্কারের এক প্রস্তাবের বিপক্ষে ইউরোপের এ দেশটিতে টানা তিন সপ্তাহের ধর্মঘট হয়েছিল। দেশজুড়ে পরিবহন ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া ওই ধর্মঘটে জনগণের বিপুল সমর্থন থাকায় তৎকালীন সরকার তাদের সংস্কার প্রস্তাব থেকে পরে সরে আসে।

বৃহস্পতিবারের ধর্মঘট শুরুর আগে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফ কাস্তেনার বলেছেন, ধর্মঘট চলাকালে দেশের অন্তত আড়াইশ স্থানে বিক্ষোভ হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। এর মধ্যে কিছু প্রতিবাদ সহিংস হতে পারে বলে আশঙ্কা তার। ‌’অসংখ্য মানুষ এসব প্রতিবাদে অংশ নেবেন এবং আমরা জানি ঝুঁকিগুলো কী। আমি অনুরোধ করেছি, যেসব জায়গায় দাঙ্গা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটবে, সেখানে যেন নিয়ম মেনে (দাঙ্গাকারীদের) গ্রেপ্তার করা হয়,’ বলেছেন তিনি।

আন্তঃনগর ও দ্রুতগতির টিজিভি ট্রেনের মধ্যে কেবল ১০ শতাংশ শুক্রবার চালু ধাকবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের এসএনসিএফ। মেট্রো চলাচলেও সারাদিন ধরে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করতে পারে বলে যাত্রীদের সতর্ক করেছে প্যারিসের মেট্রো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান আরএটিপি। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররাও এ ধর্মঘটে অংশ নেবেন। এরই মধ্যে এয়ার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ৩০ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। ইজিজেটও তাদের ২০০র বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

নার্স, হাসপাতালের কর্মী, আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, জ্বালানি খাতের কর্মী ও ডাক বিভাগে কর্মরতরাও ধর্মঘটে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ধর্মঘটের প্রভাবে হাসপাতালের পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে সে চিত্র স্পষ্ট নয় জানিয়ে ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *