বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষেই সাফাই মোদির

ভারত লিড নিউজ

নয়াদিল্লি, ভারত- বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভে উত্তাল সমগ্র ভারত। কারফিউ, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজপথে লাখ লাখ জনতা। নজিরবিহীন চাপের মুখে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।

বিতর্কিত নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভে উত্তাল সমগ্র ভারত। কারফিউ, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাজপথে লাখ লাখ জনতা। নজিরবিহীন চাপের মুখে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার।

তার পরও পিছু হটার বিন্দুমাত্র কোনো লক্ষণ দেখালেন না বিজেপির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বরং বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষেই সাফাই গাইলেন তিনি। মুসলিমদের কথা বাদ দিয়ে আইন পাস করা হলেও বললেন, এই আইন মুসলিমবিরোধী নয়। এতে মুসলিমদের কোনো ক্ষতি হবে না।

শুধু তাই নয়, বিক্ষোভরত কোটি কোটি জনতার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আমলেই নিলেন না তিনি। উল্টো বিক্ষোভের জন্য বিরোধী দলগুলোর ওপর দোষ চাপালেন। প্রতিবাদ না করে মুখ বুজে আইন মেনে নিতে বললেন। বললেন, যে সংসদ ও এমপিরা এই আইন পাস করেছে, তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে। তার কথায়, ‘এই আইন আমরা নির্যাতিতদের সাহায্য করতে পাস করেছি। আমাদের উচিত ভারতের এমপিদের ও এর সংসদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা।’ খবর এনডিটিভি ও বিবিসির।

মোদির বিজেপি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে অন্তত ২৩ জন নিহত। আহত হয়েছেন আরও বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী। ধরপাকড়ের শিকার হয়েছেন চার হাজারের বেশি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সেনা কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।

এর পরও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোববার রাজধানী দিল্লিতে এক সমাবেশের আয়োজন করে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এতে অংশ নেয় কয়েক হাজার বিজেপি সমর্থক। এই সমাবেশেই নতুন নাগরিকত্ব আইন মুসলিমবিদ্বেষী নয় বলে দাবি করেন মোদি।

চলতি মাসে (১১ ডিসেম্বর) রাতারাতি সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) নামে আইনটি সংসদে পাস করে বিজেপি সরকার। আইনটিতে পার্শ্ববর্তী তিন দেশ- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব সহজ করা হয়েছে। কিন্তু মুসলিমদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ফলে ভারতীয় মুসলিম ও সমাজের প্রগতিশীল অংশ আইনটিকে মুসলিমবিরোধী হিসেবেই দেখছে। ভারতের মুসলিমরা ভয় পাচ্ছে, নাগরিক তালিকা বা এনআরসি এবং নতুন এই নাগরিকত্ব আইন ব্যবহার করে তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে ফেলা হবে।

এ আইনের বিরোধীরা আরও বলছেন, এই আইনে মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বিজেপি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। তাদের বক্তব্য, ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি এই নাগরিকত্ব আইন করেছে।

বিক্ষোভের মুখে প্রথম থেকেই আইনটি নিয়ে একের পর বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিচ্ছে সরকার। দিল্লির সমাবেশে মোদি বলেন, ‘নাগরিকত্ব আইন দেশের কোনো মানুষের জন্য নয়। তা সে হিন্দুই হোক বা মুসলমান। এ আইন ভারতের ১৩০ কোটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। মুসলিমদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি এই আইনে তাদের কোনো পরিবর্তন হবে না।’

ভাষণে এতগুলো মৃত্যুর কোনো প্রসঙ্গ না থাকলেও চলমান বিক্ষোভের জন্য মোদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা এই আইন নিয়ে ‘মিথ্যা এবং ভুল’ তথ্য রটিয়ে বেড়াচ্ছে। বিজেপি সরকারকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দাবি করে তিনি বলেন, তার সরকার কখনই কোনো নীতি বাস্তবায়নের সময় কারোর কাছ থেকেই ‘তার ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায় না।

এদিন ভারতে কোনো বন্দিশিবির থাকার কথা অস্বীকার করেছেন মোদি। ভাষণে তিনি বলেন, ‘ভারতে কোনো বন্দিশিবির নেই এবং কোনো মুসলিমকে আটক করা হচ্ছে না।’ বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা আর বন্দিশিবির নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *