অস্ট্রেলিয়ায় ফের দাবানল : প্রাণে বাঁচতে সমুদ্রে ঝাপ হাজারও মানুষের, নিহত বেড়ে ১২

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া- ফের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। রাজধানী মেলবোর্ন ও অন্যতম প্রধান শহর সিডনীর উপকূলে দাবানলের প্রকোপ থেকে প্রাণে বাঁচতে সমুদ্রে ঝাপিয়ে পড়ছে হাজারও মানুষ। মঙ্গলবার পর্যন্ত দাবানলের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে পৌঁছেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি উপকূলীয় শহর ও পর্যটন স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর শহর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় বাসিন্দারা। এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যালাকুটা শহরে পুড়ে গেছে বহু বাড়িঘর। স্থানীয়রা বাড়ি ছেড়ে সমুদ্রের দিকে আশ্রয় নিয়েছেন। জাহাজের ঘাট বা বেধে রাখা নৌকার ভেতর অবস্থান করছেন তারা। সেখানে পুরো আকাশ রক্তিমক রঙ ধারণ করেছে দাবানলের প্রভাবে।

খবরে বলা হয়, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কিছু শহরে জ্বলছে দাবানল। মেলবোর্ন ও সিডনীর উপকূলে অবস্থিত বিভিন্ন পর্যটন স্থানের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে আগুনে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) রাজ্যে নতুন দুই জনের প্রাণহানীর খবর পাওয়া গেছে। রাজ্যের কোরবারগো শহরে এক বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে সেখানে তাণ্ডব চালিয়েছে শক্তিশালী দাবানল। এ নিয়ে দাবানলের প্রভাবে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১২ জনে। এনএসডব্লিউ পুলিশ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার গ্যারি ওরিবয়েজ বলেন, এই পরিস্থিতি খুবই শোকাবহ। তারা নিশ্চিতভাবেই তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়া ও এনএসডব্লিউতে এখনো অন্তত আরো পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছে।    

এনএসডব্লিউ’র ব্যাটম্যানস বে থেকে ভিক্টোরিয়ার বাইর্ন্সড্যাল পর্যন্ত ৫০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জ্বলছে ডজন খানেকের বেশি দাবানলের লেলিহান শিখা। দাবানলে বন্ধ হয়ে গেছে ভিক্টোরিয়ার প্রধান মহাসড়কও। ভিক্টোরিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রিওস বলেন, বিভিন্ন শহরে খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হতে পারে। কিছু জায়গায় সমুদ্র দিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব।

ভিক্টোরিয়ার কিছু শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকদের সোমবার শহর ছাড়তে নিষেধ করেছে  কর্তৃপক্ষ। বলেছে, এখন সরে যাওয়ার মতো নিরাপদ অবস্থা নেই।  উচ্চ তাপমাত্রা, বাতাস ও শুকনো বজ্রপাতে দাবানল জোরদার হয়ে ওঠেছে। ভিক্টোরিয়ার জরুরি অবস্থা বিষয়ক কমিশনার অ্যান্ড্রিও ক্রিস্প সাংবাদিকদের জানান, সবমিলিয়ে ৪ হাজার মানুষ সমুদ্র সৈকতে আশ্রয় নিয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার দমকল বিভাগের সমন্বয়ক স্টিভ ওয়ারিংটন বলেন, এখানে পুরো কুচকুচে কালো অবস্থা বিরাজ করছে। এটা বেশ ভয়ানক। এখানকার সম্প্রদায় ঝুঁকির মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থান ধরে রাখবো। তাদের বাঁচানো হবে ও সুরক্ষিত রাখা হবে। তিনি বলেন, বিগত কয়েকদিনে পুরো ইস্ট গ্রিপসল্যান্ডে বহু সংখ্যক বাড়িঘর পুড়ে গেছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাতাস ও বজ্রপাতে নতুন ২০০ দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

গত সেপ্টেম্বর থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল জ্বলছে। পুড়ে গেছে লাখ লাখ একর জমি। ধ্বংস হয়ে গেছে বহু স্থাপনা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *