ইরানের শীর্ষ কমান্ডার সোলাইমানিকে হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই অবস্থান সৌদির

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

রিয়াদ, সৌদি আরব- ইরানের শীর্ষ কমান্ডার ও দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের আল-কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। ঘটনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর মুহূর্তে দেশটি উভয় পক্ষকে ধৈর্য্য ধারণ করতে আহবান জানিয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের বিভিন্ন কার্যক্রমের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে। তাই এসব সন্ত্রাসীদের যে কোনোভাবেই হোক দমাতে হবে।

আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরেই শত্রুভাবাপন্ন ইরান ও সৌদি আরব৷ সঙ্গত কারণেই কাসিম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাদের অবস্থান তেহরানের বিপরীতে।

শুক্রবার ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ৬২ বছর বয়সী ওই জেনারেল মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিকদের ওপর শিগগিরই মারাত্মক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে সৌদি আরবের প্রভাবশালী পত্রিকা আরব নিউজ ঘটনার পর প্রথম পাতায় সোলাইমানির ছবি সম্বলিত একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে৷ যার শিরোনাম ছিল ‘আর কাউকে হত্যা করতে পারবে না সে (সোলাইমানি)৷’

একইসঙ্গে সোলাইমানিকে হত্যার পর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নের জন্য সৌদি আরব উভয় পক্ষের সংযম ধারণ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। যাতে করে এ অঞ্চলে নতুন একটি সংঘর্ষ এড়ানো যায়। সৌদি আরব মনে করে এই সংঘর্ষের কারণে অপরিণামদর্শী পরিণতি ভোগ করতে হবে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, কাসেম সোলাইমানি মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর শুক্রবার সৌদি এক কর্মকর্তা এর পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করেছেন।

এতে বলা হয়, সৌদি আরব ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছে।

ইরানের আঞ্চলিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধান কারিগর জেনারেল কাসেম। বিগত বছরগুলোতে ইরানের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কাসেম। গত ১৫ বছর ধরে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কৌশলী হিসেবে তৈরি হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপস্থিতি সুসংহত করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ইরানের আধিপত্য বিস্তার ও সৌদি আরবের প্রভাব কমিয়ে আনার কারিগর হওয়ায় তাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখেনি সৌদি সরকার৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *