ইরানি জেনারেল হত্যার প্রতিবাদ: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশে দেশে বিক্ষোভ

আমেরিকা

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- ইরাকে মার্কিন বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ করেছে লাখ লাখ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ বড় কয়েকটি শহরে যুদ্ধবিরোধী এ বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন, কানাডার টরেন্টো, জার্মানির বার্লিন, রাশিয়ার মস্কো, ফিলিস্তিনের গাজা, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও লাহোরে বিক্ষোভে নামেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভকারীরা ‘ট্রাম্প-পেন্সকে হঠাও’, ‘মধ্যপ্রাচ্য ছাড়’স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলেন।

শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের সামনে কয়েকশ বিক্ষোভকারী যুদ্ধবিরোধী শ্লোগান দেয়ার পর কয়েক ব্লক দূরে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের সামনে মিছিল নিয়ে যায়। তারা ‘নো জাস্টিস, নো পিস; যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যাও’ বলে শ্লোগান দেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক, শিকাগোসহ দেশটির অন্যান্য কয়েকটি শহরেও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।   

শুক্রবার বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। নিহত এ জেনারেলকে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হত। তাকে হত্যার এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ইরানের শত্রুতা চরম আকার ধারণ করেছে।

প্রতিবাদকারীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যা ও ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান। যুক্তরাষ্ট্রে একজন নারীর নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী ‘কোড পিঙ্ক’র উদ্যোগে এসব বিক্ষোভ হয়। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বহু বড় ও ছোট শহরে এ ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের সূচী ছিল বলে জানিয়েছেন কোড পিঙ্কের সংগঠকরা। ওয়াশিংটনে প্রতিবাদকারীরা ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধ নয়’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরাক থেকে সরে যাও’ লেখা ফেস্টুন বহন করে।

ওয়াশিংটনের প্রতিবাদ সমাবেশে যারা ভাষণ দিয়েছেন তাদের মধ্যে অভিনেত্রী ও আন্দোলনকারী জেন ফন্ডাও ছিলেন। গত বছর জলবায়ূ পরিবর্তন বিরোধী এক সমাবেশের সময় ইউএস ক্যাপিটলের সিঁড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ৮২ বছর ফন্ডা বলেন, ‘এখানে উপস্থিত তরুণদের জানা উচিত, তোমাদের জন্মের পর থেকে যতগুলো যুদ্ধে লড়া হয়েছে সেগুলো হয়েছে তেলের জন্য। এই তেলের জন্য আর কোনো জীবন নষ্ট, লোকজনকে হত্যা করতে ও পরিবেশের ক্ষতি হতে দিতে পারি না।’

মেরিল্যান্ডের বেথেসডায় একই ধরনের এক সমাবেশে প্রতিবাদকারী স্টিভ লেন বলেন, ‘মিছিলে যোগ দিলে খুব বেশি কিছু করা হয় এমন না।কিন্তু অন্তত আমি বাইরে বের হয়ে বলতে পারি যে, আমি এই বিষয়গুলোর বিরোধিতা করছি। সম্ভবত যদি অনেক লোক একই কাজ করে, তখন তিনি (ট্রাম্প) শুনবেন।’ জার্মানির বার্লিনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার মানুষ। তারা ইরানের পতাকা গায়ে জড়িয়ে দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না’, ‘যুদ্ধ বন্ধ কর’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। রাশিয়ায় জেনারেল সোলেমানির ছবির পাশে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেন মস্কোবাসী। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও লাহোরে মার্কিন পতাকা এবং ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা জ্বালিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *