যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক! ইসরাইলের মৃত্যু হোক!

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য

তেহরান, ইরান- ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক! ইসরাইলের মুত্যু হোক! শনিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এমন স্লোগানে স্লোগানে ইরানের শীর্ষ সামরিক কৌশলবিদ ও রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিবাদ জানায় লাখ লাখ ইরাকি জনতা। সোলাইমানির জন্য শোক দিবস পালন করতে যেয়ে রাস্তায় নেমে আসে দেশটির সর্বস্তরের জনগণ।

শুক্রবার বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় নিহত হন সোলাইমানি। ইরানের মধ্যপ্রাচ্য অভিযানগুলো দেখভাল করতেন তিনি। ব্যাপক জনপ্রিয় সোলাইমানি তার কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট নয় বরং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে জবাব দিতেন। কুদস বাহিনীর এই প্রধানকে হত্যার ঘটনায় ইরান ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নেয়ার হুমকি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে শুক্রবার ভোরে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে ড্রোন থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন সোলাইমানি ও ইরাকের প্যারা মিলিটারি ফোর্স (পিএমএফ) কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহানদিসসহ আরও ছয় জন। বহুদিন ধরে তিনি ‍যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবের টার্গেট ছিলেন। শনিবার জানাজার জন্য বাগদাদের আল জাদিরিয়া শহরে আনা হয় তাদের কফিন।

কালো পোশাক পরে এবং শক্তিশালী আধাসামরিক গ্রুুপ হাশদ আল-শাবীর পতাকা উত্তোলন করে দলে দলে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রথম বৃহত জনতা বাগদাদের কাধিমিয়ার শিয়া মাজারের কাছে জড়ো হয়।

পিএমএফের সদস্য ৩৪ বছর বয়সী আমজাদ হামউদ আলজাজিরাকে বলেন, আমরা এই সাহসী যোদ্ধা সোলাইমানি এবং মুহান্দিসের মৃত্যুতে শোক জানাতে এসেছি। তিনি আরও যোগ করেন, দু’জনই শিয়া বিশ্ব ও ইরাকের স্বার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। শোক প্রকাশকারীরা, যাদের বেশিরভাগই পিএমএফের সমর্থক, তারা গ্রিন জোনে গিয়েছিলেন মিছিল নিয়ে। সেখানে মার্কিন দূতাবাস সহ সরকারী অফিস এবং বিদেশী দূতাবাসগুলি অবস্থিত।

সোলাইমানির মরদেহ জনতার কাছে পৌঁছালে সমাবেশ থেকে স্লোগান দেয়া হয়। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদী অক্টোবরের গোড়ার দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পরে নভেম্বরে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে শনিবার তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জানাজার মিছিলে অংশ নেন। এতে তিনি ছারাও উপস্থিত ছিলেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিসহ একাধিক শক্তিশালী শিয়া নেতা।

পিএমএফের মুখপাত্র মোহননাদ হুসেন ওই জানাজা মিছিলের আয়োজন করেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন যে, কারবালা শহরে শনিবারের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। কারবালা হল ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানির ঘাঁটি। তিনি মার্কিন হামলার নিন্দা করেছেন এবং শুক্রবারের খুতবার জন্য তাঁর দফতর থেকে এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মরদেহগুলিকে পবিত্র নগরী নাজাফে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আল-মুহান্দিসসহ এই হামলায় নিহত অন্যান্য ইরাকিদের দাফন করা হয়েছে। রোববার নিহত ইরানিদের মরদেহ তেহরানে প্রেরণের কথা রয়েছে।

মার্কিন স্বার্থে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর দাবি জানানো হয়েছে শনিবারের মিছিল থেকে। শোককারীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং তাদের যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাই ইরাককে অবশ্যই এ হামলার জবাব দিতে হবে।

সমাবেশে ২৪ বছর বয়সী আলি এই হত্যাকা-কে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা হাশেদ ও ইরাকি সরকারকে মার্কিন আক্রমণের জবাব দেয়ার আহবান জানাচ্ছি। তিনি আরও যোগ করেন, যদি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া পর্যাপ্ত না হয় তবে সামরিকভাবে একটি হামলা প্রয়োজন।

হুসেন বলেন, আমাদের সকলের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের দিন। তবে প্রতিটি যোদ্ধা শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত। জবাব দিতে প্রয়োজনে আমরা আমাদের নেতাদের মতো জীবন উতসর্গ করতে চাই। আমরা বলতে চাই, সামরিক বাহিনীর অংশ হিসাবে হাশদ আল-শাবী যা করা দরকার তাই করবে। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। ইরান সমর্থিত পিএমএফ গত বছর ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীতে সংহত হয়েছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন যে, এর কয়েকটি দল বাগদাদে স্বাধীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *