ফের রক্তাক্ত নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, অভিযোগ আরএসএস-এর বিরুদ্ধে

ভারত

নয়াদিল্লি, ভারত- ফের আক্রান্ত হয়েছে ভারতের দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)।রবিবার সন্ধ্যায় লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় একদল মুখোশধারী ছাত্রছাত্রী। এতে মাথা ফেটে যায় জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষের। আহত হন আরও অনেকে। হামলার অভিযোগ উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এ হামলা চালিয়েছে। তবে এবিভিপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। খবর এনডিটিভি ও ওয়ান ইন্ডিয়ার।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবিভিপি-র পক্ষ থেকে অবশ্য হামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতার খবর অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, বামপন্থীরাই এদিন হোস্টেলে আট ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আচমকাই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে পড়ে অর্ধশত মুখোশধারী। হাতে বড় বড় লাঠি আর পাথর নিয়ে একের পর এক হোস্টেলে তাণ্ডব চালাতে থাকে তারা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছোটাছুটি করতে থাকে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা।

হামলায় জখম হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ঐশী বলেন, ‘মুখোশধারী গুণ্ডারা আমাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে। আমাকে বেদম পিটিয়েছে। আমার রক্ত ঝরছে।’

সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অতুল সুদ বলেন, ‘কারা হামলা করেছে, তাদের আমি চিনতে পারিনি। তবে হাতে লাঠি-পাথর নিয়ে একের পর এক হোস্টেলে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে তারা। ওদের হাতে বড় বড় পাথর ছিল, যাতে আমাদের অনেকেরই মাথা ফেটে যেতে পারতো। এক বার আমি পড়ে যাই। এর পর যখন বাইরে বের হই, দেখলাম আমার গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে ওরা।’

এই হামলার ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন সেই এবিভিপি-র সভাপতি দুর্গেশ কুমার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার পাল্টা প্রশ্ন, ‘গত দুই মাস ধরে কারা ক্যাম্পাসে অশান্তি ছড়াচ্ছে? ৫০-৬০ জন কি হাজার জনকে মারতে পারে?’

এবিভিপি-র সভাপতির দাবি মানতে অবশ্য নারাজ শিক্ষার্থীরা। এই হামলায় জেএনইউ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। একের পর এক হোস্টেলে ঢুকে ভাঙচুর চালালেও সে সময় ক্যাম্পাসে কোনও পুলিশ সদস্য চোখে পড়েনি।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেএনইউ কমিউনিটির সবার প্রতি এই বার্তা। মুখোশধারী দুষ্কৃতীরা লাঠি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভাঙচুর ও হামলা চালাচ্ছে। জেএনইউ কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকেছে। এই সময়ে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সতর্ক থাকাটা জরুরি। দুষ্কৃতিকারীদের ধরতে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।’

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘জেএনইউ-তে হিংসার ঘটনায় আমি বিস্মিত। শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের উচিত অবিলম্বে এই হিংসা থামিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা। নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই যদি শিক্ষার্থীরা সুরক্ষিত থাকতে না পারে, তবে দেশের উন্নতি হবে কী করে?’

উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেছেন, ‘জেএনইউ-তে যেভাবে মুখোশধারী অপরাধীরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত করা উচিত।’পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, জেএনইউ-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড বর্ণনার মতো কোনও শব্দ আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *