ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করবে না যুক্তরাষ্ট্র। আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। বাগদাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সোমবার (৬ ডিসেম্বর)  মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। এর দুইদিনের মাথায় ৫ জানুয়ারি ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের বহিস্কার চেয়ে বিল পাস করে দেশটির পার্লামেন্ট। ইরাকি আইনপ্রণেতারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বাগদাদে ঢুকে তাদের মিত্র ইরানের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে; তা ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

একইদিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি করে তেহরান। এর একদিন পর সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এক মার্কিন জেনারেলের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্রে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে এমন খবর প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়, ইরাকের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর পর আগামী দিনগুলোতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি খালি করতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে। জানা গেছে, সোমবার রাতে কিছু সেনা ঘাঁটি ছেড়েছে। যদিও সে সময় নিরপেক্ষ সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

এমন বাস্তবতায় পেন্টাগনের সাংবাদিকদের মাইক এসপার বলেন, ‘ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশটির ঘাঁটি ছাড়তে এখনও কোনো পরিকল্পনাও হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না যে চিঠিটা আসলে কী…আমরা জানার চেষ্টা করছি, এটা কোথা থেকে এসেছে। ওইটা (চিঠি) কী।’ এসপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও মিত্রদের সঙ্গে ইরাকে আইএসবিরোধী অভিযানের ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সংবাদমাধ্যমে চিঠিটা প্রকাশের পর ইরাকে মার্কিন সেনাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি জেনারেল মার্ক মিলেই জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা হয়নি এখনও।

আইএস-বিরোধী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য মার্কিন বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ইরাক। রবিবার পাস হওয়া প্রস্তাবে সরকারকে ওই আমন্ত্রণ বাতিল করতে বলা হয়েছে। পার্লামেন্টে দেয়া বক্তব্যে ইরাকের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদীও মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন। এরপরই ওই চিঠিটি প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *