মেক্সিকোয় মাদকবিরোধী যুদ্ধে গুম হয়েছে ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ

আমেরিকা লিড নিউজ

মেক্সিকো সিটি,মেক্সিকো- শক্তিশালী মাদক চক্রের সঙ্গে মেক্সিকো সরকারের সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ গুম রয়েছে। এদের মধ্যে এক চতুর্থাংশই নারী। সোমবার (৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ মানুষ সংখ্যা পূর্বের ধারণার চেয়ে  ৫০ শতাংশেরও বেশি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

উত্তর আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোকে ‘মাদক সাম্রাজ্য’ বলা হয়। মাদক চোরাচালান ও শক্তিশালী মাদক চক্রের বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় ২০০৬ সালে দেশটিতে মাদকবিরোধী যুদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। নামানো হয় সেনাবাহিনীকে।

২০০৬ সালের শেষ দিকে সাড়ে ছয় হাজার সেনা সদস্যকে মিচোয়াচান রাজ্যে মোতায়েন করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফেলিপ চালডেরন। সরকারি তথ্য অনুসারে, ওই বছর ১১ হাজার ৮০৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। গুমের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৩৪০টি। বিশাল সংখ্যক মানুষের গুমের অভিযোগ রয়েছে অপরাধীচক্র ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে।

এরপর গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে মাদকবিরোধী যুদ্ধ। সরকারের তথ্য মতে, ২০১৭ সালে গুমের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার। মেক্সিকোর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলছে,  গুম হওয়া ব্যক্তিদের জীবিত বা মৃত খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে মেক্সিকোর ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অব মিসিং এর প্রধান কারলা কুইনতানা বলেন, সরকারি হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৬১ হাজার ৬৩৭ জন। নিখোঁজদের ৯৭.৪ শতাংশেরও বেশি ২০০৬ সালে মাদকবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর গুম হয়েছে।

২০১৮ সালে মেক্সিকোর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডোর দায়িত্ব নেয়ার পর মাদকবিরোধী যুদ্ধে নতুন কৌশল নেন। তার প্রশাসন মাদকচক্রের সঙ্গে ‘গুলি নয়, আলিঙ্গন’ নীতি গ্রহণ করে বৈষম্য ও দুর্নীতি মোকাবিলায় মনোনিবেশ করেন। তবে তার পরেও থামেনি মৃত্যুর মিছিল। গত বছরও দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

মেক্সিকোর কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজদের উদ্ধার তৎপরতায় এখন পর্যন্ত ৮৭৩টি গোপন গণকবরে এক হাজার ১২৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় তল্লাশি কমিশন বলছে, কাজ শুরুর প্রথম ১৩ মাসে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মাত্র এক তৃতীয়াংশ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে আর এক চতুর্থাংশেরও কম সংখ্যকের লাশ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া গেছে। সরকার ডিএনএ ডাটাবেজ স্থাপন করে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করলেও এখনও বেশিরভাগই চিহ্নিত করা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *