অবশেষে পার্লামেন্টে পাস হল ব্রেক্সিট বিল

ইউরোপ লিড নিউজ

লন্ডন, যুক্তরাজ্য- অবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হল ব্রেক্সিট (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া) বিল। এর মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পথে বড় বাধা পার করল যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ৩৩০-২৩১ ভোটে বিলটি পাস হয়। আগামী সোমবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে অনুমোদন পেতে পারে এটি। তবে এই বিলের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে ভাঙন দেখা দিতে পারে সতর্ক করেছেন বিরোধীরা। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ খবর জানিয়েছে।

২০১৬ সালে এক গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেয় যুক্তরাজ্যের ভোটাররা। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে কয়েক দফায় তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। তবে গত বছর কয়েক দফায় চেষ্টা করেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এসব চুক্তি অনুমোদন করাতে ব্যর্থ হয় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ সরকার। ফলে গত ১২ ডিসেম্বর দেশটিতে নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আবারও ক্ষমতায় আসে কনজারভেটিভ পার্টি।

নতুন মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার গত ২০ ডিসেম্বর পার্লামেন্টে ইইউ প্রত্যাহার চুক্তি বিল ‘দ্য ইইউ উইথড্রয়ল অ্যাগ্রিমেন্ট বিল’ উত্থাপন করে। বিতর্কের পর বৃহস্পতিবারের ভোটাভুটিতে বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হয়। তবে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের বাইরের কোনও আইনপ্রণেতা বিলটির পক্ষে ভোট দেয়নি।

স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা আয়ান ব্লাকফোর্ড বলেছেন, বিলটি ‘সাংবিধানিক সংকট’ তৈরি করেছে। বিলটি পাসের ফলে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘিরে গণভোট ও যুক্তরাজ্যের ভাঙন নিকটবর্তী হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আর প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির ব্রেক্সিট বিষয়ক মুখপাত্র পল ব্লমফিল্ড মন্ত্রীদের হুঁশিয়ার করে যুক্তরাজ্যের ভাঙন এড়াতে বিলটি নিয়ে ‘সংবেদনশীলতা ও  সতর্কতার’ সঙ্গে অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারি ইইউ-এর রাজনৈতিক কাঠামো থেকে যুক্তরাজ্য বের হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে জনসনের ব্রেক্সিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেখুন আমরা প্রথম ধাপ পার করছি- ইইউ ত্যাগ- কিন্তু কঠিন ধাপ আসার এখনও বাকি আছে।’ বৃহস্পতিবার বিলের পক্ষে ভোট দিতে প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকলেও কোনও কথা বলেননি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *