ইরানের সঙ্গে সংঘাতে পুরো পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হবে: জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

রিয়াদ, সৌদি আরব- ইরানের সঙ্গে সংঘাতে পুরো পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের হামলা-পাল্টাহামলার জেরে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সফরে গিয়ে রিয়াদে রোববার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই হুশিয়ারি দেন তিনি।  মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশে পাঁচদিনের সফরে শনিবার টোকিও ত্যাগ করেন তিনি। এই তিনটি দেশ হচ্ছে- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান।

এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবের মাধ্যমে এ সফর শুরু করেছেন আবে। সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, শনিবার রাজধানী রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল তুয়াইজরিসহ সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর অধিনায়ক কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর থেকে একের পর এক ঘটতে থাকা নাটকীয় ঘটনাবলি সংঘাতময় এলাকাটিকে করে তুলেছে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থার ভেতরে জাপানের পূর্বঘোষিত টহলদার মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ার মুখে সবকিছু ঠিকঠাক করাই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রীর টোকিও ত্যাগ করার আগে একই দিনে জাপানের দক্ষিণের দ্বীপ ওকিনাওয়া থেকে দেশটির নৌবাহিনীর দুটি পিসি-৩ টহলদার বিমান ৬০ জন ক্রু নিয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

জিবুতিতে অস্থায়ী একটি ঘাঁটি জাপান আগে থেকেই তৈরি করেছিল, যেখান থেকে আশপাশের সাগরে জলদস্যু দমন অভিযানে জাপানি বাহিনী অংশগ্রহণ করে। তবে এবারের মিশন এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ যে, মুখোমুখি অবস্থানরত বৈরী কিছু দেশের নৌবাহিনীর উপস্থিতি এলাকার সমুদ্রসীমাকে করে তুলেছে অনেক বেশি অনিশ্চিত।

যাত্রা শুরুর আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর মিশন নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বোধগম্যতা অর্জন করার মধ্যে দিয়ে বাহিনী প্রেরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করে নেয়ার আশা তিনি করছেন। এর আগে ডিসেম্বর মাসে তেহরান সফরে গিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সম্মতি তিনি আদায় করে নিতে পেরেছেন।

ফলে ধারণা করা হচ্ছে, এবারের সফরে লক্ষ্য অর্জন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর জন্য হবে অনেক বেশি সহজ। কেননা যে তিনটি দেশে তিনি যাচ্ছেন, জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই কেবল এরা বজায় রাখছে না, একই সঙ্গে দেশগুলো হচ্ছে সেই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জাপানকে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় টহলদার মিশনে যোগ দিতে হলেও জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী সরাসরি মার্কিন জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকছে না এবং জাপানের বিমান ও জাহাজের অবস্থানও হবে উত্তেজনাপূর্ণ হরমুজ প্রণালি থেকে কিছুটা দূরে ওমান উপসাগর ও আশপাশের এলাকায়।  মিশনের মূল অংশ হবে আত্মরক্ষা নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার তাকানামি, প্রধানমন্ত্রী সফর শেষ করে ফিরে আসার পর ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে যেটা ২০০ জন ক্রু নিয়ে জাপান ত্যাগ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *