লিবিয়ায় শান্তির খোঁজে বার্লিনে বিশ্বনেতারা

ইউরোপ মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

মিউনিখ, জার্মানি- দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে অশান্ত লিবিয়ায় শান্তির খোঁজে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে আলোচনায় বসেছেন বিশ্বনেতারা। লিবিয়ায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও চলমান সংকটের যথার্থ সমাধানের লক্ষ্যে রোববার যুদ্ধরত পক্ষগুলো নিয়ে বিশ্বনেতারা এক টেবিলে বসেন। ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার জাতীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়াজ আল-সারাজ এবং বেনগাজিভিত্তিক বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। লিবিয়া সংকট নিরসনের চেষ্টা হিসেবে ২০১৮ সালের পর এটিই প্রথম কোন বৈঠক। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের যৌথ সভাপতিত্বে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও অংশ নেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান, ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্তে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এছাড়া জাতিসংঘসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আরবলীগের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শুরুর আগে এরদোগান বলেন, লিবিয়ার ‘লৌহমানব’ হাফতার অবশ্যই তার সংঘাতপূর্ণ মনোভাব ত্যাগ করবেন।

এর আগে ১২ জানুয়ারি তুরস্ক ও রাশিয়ার যৌথ আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় লিবিয়ায় যুদ্ধরত আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার ও বিদ্রোহী জেনারেল খলীফা হাফতারের বাহিনী। পরে রাশিয়ায় উভয়পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনায় বসলে কোনো প্রকার চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই মস্কো ছাড়েন জেনারেল হাফতার।

২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে বিক্ষোভ ও গৃহযুদ্ধে লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির পদচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর দেশটি দু’পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার সরকার রাজধানী ত্রিপোলিসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন। অন্যদিকে বেনগাজিকে কেন্দ্র করে মিসর, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতারের বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চলের দখল নেয়। ফ্রান্সও তাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, লিবিয়ার সামরিক নেতা খলিফা হাফতার তার নিয়ন্ত্রণাধীন বন্দরগুলো থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন। বার্লিনে শান্তি আলোচনার আগ দিয়ে এমন পদক্ষেপ নেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনায় সুবিধা পেতে এমনটি করেছেন তিনি। লিবিয়ার অর্থনৈতিক আয়ের অন্যতম উৎস তেল রপ্তানি। দেশটির রাষ্ট্র-পরিচালিত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, হাফতারের পদক্ষেপের কারণে প্রতিদিন অন্তত ৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি থমকে গেছে।

এনওসি জানিয়েছে, লিবিয়ার মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও মিলিশিয়া সংগঠন পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিস গার্ড নিয়ন্ত্রণ করেন হাফতার। তিনি অঞ্চলগুলোর এনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিরতে অয়েল কোম্পানি, হারৌগ অয়েল অপারেশন, ওয়াহা অয়েল কোম্পানি, জুয়েইতিনা অয়েল কোম্পানি ও আরব গাল্ফ অয়েল কোম্পানিকে পাঁচটি বন্দর থেকে তেল রপ্তানি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই পাঁচ বন্দর থেকে অনিবার্য কারণবশত তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এনওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *