ভারতে মুসলিমসহ সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমান দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান আফগানিস্তানের

পূর্ব এশিয়া ভারত

কাবুল, আফগানিস্তান- ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র আফগানিস্তান। সেই মঙ্গে মুসলিমসহ সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমান দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। সিএএ নিয়ে উপমহাদেশজুড়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মধ্যে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নয়াদিল্লির প্রতি এই আহ্বান জানান আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে আমরা কোনো হিন্দুর ওপর নির্যাতন করিনি। আমাদের পুরো দেশটাই নিপীড়নের শিকার। আফগানিস্তানের তিনটি প্রধান ধর্মের মানুষ, মুসলমান, শিখ ও হিন্দুদের একইভাবে তা সহ্য করতে হয়েছে।’ ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,  দিল্লি যেন মুসলমানসহ সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমান দৃষ্টিতে দেখে।

গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

ভারতের নতুন এ নাগরিকত্ব আইনে প্রথমবারের মতো ধর্মকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার বলছে, প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তিন দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে ভারত চলে আসা অমুসলিমদের সুরক্ষা দিতে এ আইন তৈরি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আইনটির সমালোচকরা বলছেন, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের কোণঠাসা করা এবং বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এ আইন হয়েছে। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মূলনীতিরও লংঘন, বলছেন তারা।

কাশ্মীর ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় মরিয়া ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই সক্রিয় দিল্লি। রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতৃত্বের কাছে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে। একইভাবে দিল্লিতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতদের ডেকেও একইভাবে বোঝানো হচ্ছে।

নাগরিকত্ব বিল পেশের সময় পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই বারবার পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের তুলনা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কাবুল কিছু না বললেও এ নিয়ে কারজাই-এর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে ব্যাপারে দিল্লি সজাগ রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার লক্ষ্ণৌতে সিএএ-এর সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ) কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা নেই। আর পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আইনটি বহাল থাকবে। এই আইন প্রত্যাহার করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *