ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিস্কারের দাবিতে বাগদাদে বিশাল বিক্ষোভ

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য

বাগদাদ, ইরাক- ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিস্কারের দাবিতে রাজধানী বাগদাদে চলছে বিশাল বিক্ষোভ। বাগদাদের অধিবাসীরা ছাড়াও ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে শিয়া, সুন্নি, কুর্দি ও আরব গোত্রগুলো এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগের হাতেই দেখা যাচ্ছে ইরাকের জাতীয় পতাকা আর বড় বড় ব্যানার। তাতে লেখা রয়েছে মার্কিনবিরোধী নানা স্লোগান।

প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদরের ডাকে যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে শুক্রবার। এদিন সকাল থেকেই বাগদাদের আল হুরিয়াত স্কয়ারের কাছে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসেন নারী,পুরুষ,শিশুসহ সব বয়সের ইরাকিরা।রাস্তা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিক্ষোভে শ্লোগান ওঠে ‘আমেরিকা নিপাত যাক,ইসরায়েল নিপাত যাক’,‘আমেরিকা, ইসরায়েল সব বেরিয়ে যাও,’ ‘সরকারের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা বিদেয় হও।’

ইরাকে গতবছর অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সদরের ডাকা এ বিক্ষোভ।

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় ইরাকে ইরানের শীর্ষ কুদস ফোর্স কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানিসহ ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে জোর আওয়াজ উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার দুইদিন পরই ইরাকের পার্লামেন্ট ৫ হাজার ২শ’ সদস্যের মার্কিন বাহিনীসহ সব বিদেশি সেনা বের করে দেয়ার জন্য ভোট দেয় এবং সরকারকে আইএস এর সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার অনুরোধ বাতিলের আহ্বান জানায়।

পার্সটুডে জানিয়েছে, এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবথেকে বড় মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ। বাগদাদের তাহরির স্কোয়ার ও মার্কিন দূতাবাসের সামনেও সমবেত হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।  তাতে সমর্থন দিয়েছেন ইরাকের শিয়া ও সুন্নি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।

কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর তিন সপ্তাহের মাথায় এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হল। ওই হামলায় আরো নিহত হন, ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ইউনিট (পিএমইউ) এর উপ-প্রধান আবু মাহদি আল মুহানদিস। মৃত্যুর পর ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মুছে ফেলতে অবদান রাখায় তাদেরকে বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে এই অঞ্চলের মানুষ।

ওই হামলার জবাব দিতে ইরান প্রতিবেশী দেশ ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে এই ঘাঁটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়। ইরান দাবি করে ওই হামলায় শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের জাতীয় সংসদ সে দেশ থেকে মার্কিন ও তার মিত্র জোটের সব সেনাদের ইরাক থেকে বের করে দেয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *