শরণার্থী শিবির বাদে আর সব বিক্রি করে দেবে বিজেপি: মমতার তোপ

ভারত

ভারত, কলকাতা: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি কেন্দ্রের বাণিজ্য নীতি এবং নাগরিকত্ব নীতি, দুটোরই তীব্র নিন্দা করলেন। মমতা বলেন, এই সরকার সব কিছুই বিক্রি করে থাকবে, দেশে পড়ে থাকবে শুধু কিছু শরণার্থী শিবির।

এর আগেও একাধিকবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে (সিএএ) সরব হতে দেখা গেছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বেঁচে থাকতে পশ্চিমবঙ্গে সিএএ চালু করা যাবে না বলেও কেন্দ্রকে এর আগে বেশ কয়েকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এবার তার তোপের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিও।

কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের এক সভা থেকে দলনেত্রী বলেন, ‘বিজেপি দিল্লির নির্বাচনেও হেরে যাবে, এর আগেও একের পর এক রাজ্যে হেরেছে তারা, অবশ্য বিভিন্ন রাজ্যে হেরে গিয়েও তাদের লজ্জা নেই। ওরা সব কিছু বিক্রি করে দিচ্ছে, দেশে পড়ে থাকবে কিছু শরণার্থী শিবির।’

তিনি বলেন, ‘ওরা এয়ার ইন্ডিয়া, এলআইসিকে বেসরকারিকরণ করছে এবং এমনকি ভারতীয় রেলেরও বেসরকারিকরণের কথা ভাবছে ওরা। আমাদের টাকা এখন আর নিরাপদ থাকবে না।’ বিজেপি রাজ্য জুড়ে হিংসার রাজনীতি করছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৬ বছর ধরে কেন্দ্রে বিজেপির সরকার রয়েছে, অথচ তারা বাংলার জন্যে কিছুই করেনি। বরং নদিয়ায় আমার দলের বেশ কয়েকজন কর্মীকে হত্যা করেছে। বিজেপি যদি মনে করে যে কেবল হিংসার রাজনীতি করেই বাংলা জয় করতে পারবে তাহলে ওরা ভুল করছে, মানুষ ওদের দিকে নজর রাখছে, এই সব মনে রাখবে জনগণ।’

মমতার তোপের মুখে পড়েন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরও। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের বিরুদ্ধে যেভাবে ‘গোলি মারো’ (গুলি করুন) মন্তব্য করেছেন তিনি, তার জন্যে ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘শাহিনবাগে মহিলারা বিক্ষোভে বসেছেন এমনকি আমাদের রাজ্যেও মহিলারা বিক্ষোভ করছেন। অথচ একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলছেন যে ওদের গুলি করে দাও। এই কথা বলার পরে তিনি কীভাবে তার পদে (মন্ত্রিসভায়) বহাল রয়েছেন?’

এর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধীকরণ বা এনপিআরের কাজ করা হবে না। কেননা এনপিআর আসলে এনআরসিরই প্রথম পদক্ষেপ, মনে করেন তিনি। সূত্র: এনডিটিভি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *