করোনাভাইরাসের কারণে দাম বাড়ছে আদা-রসুনের

বাংলাদেশ

ঢাকা, বাংলাদেশ- পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকলেও বাজারে দাম বাড়ছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মসলা আদা ও রসুনের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুন ও আদার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বেড়েছে। চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশে এই দুই পণ্যের আমদানি ঘাটতিকে দাম বাড়ার কারণ দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে এ খবর দেয়া হয়েছে।

এছাড়া কিছু সবজি ও চালের দামে কিছুটা হেরফের হলেও মানভেদে পেঁয়াজের কেজি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়ে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাজার কারওয়ানবাজার ছাড়াও রামপুরা বাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, শাহজাহানপুর, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম প্রতি কেজি ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। আর আদার কেজি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারের আজহার স্টোরের মালিক মো. আজহার বলেন, গত সপ্তাহে খুচরায় রসুন বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা, এটি এক লাফে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। পাশাপাশি আমদানি করা আদার কেজি এখন ১৬০ টাকা, গত সপ্তাহে দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

কারওয়ানবাজারের আড়ৎদার এরশাদ হোসেনও আদা-রসুনের দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে রসুন এখন ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর চীনা আদা পাইকারিতে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি আদা ১১০ থেকে ১২০ টাকা পাইকারি দামে বিক্রি হয়েছে।

আদা-রসুনের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতা মো. আজহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে চীনা রসুন বাজারে নেই বললেই চলে। এখন দেশি ও ভারত থেকে আমদানি করা রসুন বাজারে আছে। চীনা রসুন আমদানি বন্ধ থাকায় এর দাম বেড়ে গেছে।’

একই কারণে আদার দামও বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ’চীনা আদাটা বাজারে মজুদ বেশি থাকায় এখনও পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু দাম বেড়ে গেছে।’ আদা-রসুনের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে শুধু আদা-রসুন নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে ক্রেতাদের।

কারওয়ানবাজারে কেনাকাটা করতে আসা ব্যাংকার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বাজার যদি সঠিকভাবে মনিটরিং করা না হয় তাহলে ব্যবসায়ীরা এই অজুহাত, সেই অজুহাতে দাম বাড়িয়ে যাবেই। তাই সরকারকে এসব দিকে কঠোর হতে হবে। বেশি বেশি মোবাইল কোর্ট চালু রাখতে হবে।”

এদিকে পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকার মতো কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১২০ টাকা ও পাকিস্তানি পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *