ট্রাম্পকে জেতাতে আবারও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে রাশিয়া

আমেরিকা ইউরোপ লিড নিউজ

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে রাশিয়া মাঠে নেমেছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, গতবারের মতো করেই নির্বাচনী প্রচারণায় হস্তক্ষেপ করছে মস্কো। গত সপ্তাহে (১৩ ফেব্র“য়ারি) কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেনস কমিটির এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে রুশ হস্তক্ষেপের ব্যাপারে দায়িত্বশীল আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করেন ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইনটেলিজেনসের (ডিএনআই) জোসেফ ম্যাগয়ার।

ওই শুনানির ব্যাপারে জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ট্রাম্প। গোপনে শুনানিতে অংশ নেয়ায় ম্যাগয়ারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে শুক্রবার এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যাগয়ার সহকারী গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেলবি পিটারসন বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তেক্ষেপের বিষয়ে হাউস ইনটেলিজেন্স কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি শোনার পর ক্ষেপে গিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। ওই শুনানিতে ডেমোক্র্যাট নেতা ও ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের প্রধান অ্যাডাম সিফও উপস্থিত ছিলেন।

এই বিতর্কের মধ্যে মার্কিন নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে চলতি সপ্তাহে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য নিয়ে সামনে এসেছেন সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও বর্তমানে রাজনীতি ভাষ্যকার ফিলিপ জিরাল্ডি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও রাজনীতিতে রাশিয়া নয় বরং হস্তক্ষেপ করছে ইসরাইলই। গত শনিবার ‘ইউএনজেড রিভিউ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, ‘ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার রাজনীতি ও নির্বাচনি ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে আসছে। কিন্তু নিজেদের স্বার্থেই এ বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা উল্টো রাশিয়াকে দোষারোপ করে আসছেন।’

জিরাল্ডি মনে করেন, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার রাজনীতিতে জড়িত। কিন্তু তাদের কখনও জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচনেও ইসরাইল হস্তক্ষেপ করেছে। জিরাল্ডি বলেন, ‘এর নেতিবাচক ফল তো এখন দেখাই যাচ্ছে। গত সপ্তাহে আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট দলের নির্বাচন হয়েছে। সেখানে ভোট দেয়ার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে ইহুদি ধনকুবেররা জড়িত। এই ধনকুবেরদের সঙ্গে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি ইহুদি বসতি নির্মাণকারীদের সম্পর্ক রয়েছে।’

এদিকে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা রজার স্টোনকে ৪০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা এবং ২৫০ ঘণ্টার ‘কমিউনিটি সার্ভিস’ দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্তকারী আইনপ্রণেতাদের মিথ্যা তথ্য দেয়া, তদন্ত কাজে বাধা দেয়া এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার দায়ে রজারকে এই দণ্ড দেয়া হয়েছে। এসব অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন স্টোন।

বৃহস্পতিবার রজারের সাজার মেয়াদ ঘোষণা করেন বিচারক অ্যামি বারম্যান। জেল খাটার পর রজার স্টোনকে আরও ২৪ মাস নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রজার স্টোন ষষ্ঠ। ৬৭ বছর বয়সী রজার উইকিলিকসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটিকে মিথ্যা বলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া নানাভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, ট্রাম্পকে জেতাতে সহায়তা করেছিল মস্কো। ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে গোপন আঁতাত গড়ে তুলেছিল রুশ কর্মকর্তারা। এসব অভিযোগ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র অধীনে তদন্ত শুরু হয়।

প্রায় দুই বছরের তদন্ত শেষে এফবিআই’র পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ট্রাম্পের জয়ে সহায়তা করেছিল রাশিয়া। এসব উদ্যোগের মধ্যে ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রাম্পের পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্ষোভ আয়োজন করা ও বিক্ষোভকারীদের অর্থ প্রদান। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকদের সঙ্গে রাশিয়ার সন্দেহভাজন আঁতাত নিয়ে উঠে আসা তদন্তে ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিচার ও বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রজার ষষ্ঠ ব্যক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *