করোনার প্রতিষেধক তৈরির লক্ষ্যে গবেষণা শুরু ইরানের

আমেরিকা চীন মধ্যপ্রাচ্য

তেহরান, ইরান- করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির লক্ষ্যে গবেষণা শুরু করেছে ইরানের চিকিৎসা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট ব্যাপক সংখ্যায় তৈরির সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে ওই বিভাগ।

ভাইস প্রেসিডেন্টের দপ্তরের অধীন প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রের প্রধান ইসমাইল কাদেরিফার বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে টিকা তৈরির জন্য এ ক্ষেত্রে দক্ষ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন কোম্পানি এবং কয়েক জন ছাত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানে প্রতিদিন ন্যানো প্রযুক্তিতে ২০ হাজার মাস্ক তৈরি হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিহত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি নিয়ে কাজ করছে উন্নত দেশগুলো। ইতিমধ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এর প্রতিষেধক প্রস্তুত করেছে বলে দাবি করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের পক্ষ থেকে বলা হয়, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এর প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা শুরু করে মডের্না। আর প্রতিষেধক প্রস্তুত হওয়ার পর তারা মার্কিন সরকারের কাছে এর নমুনা দিয়েছে।

মডের্না কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, করোনা প্রতিষেধকের জন্য রোগীকে দুটি ডোজ ব্যবহার করতে হবে। এই দুটি ডোজ দিলে একজন রোগীরা করোনা থেকে সেরে উঠবেন পাশপাশি অন্যদের থেকে আর আক্রান্তও হবেন না। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আরো বলা হচ্ছে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই প্রতিষেধকটি দিয়ে মানবদেহে পরীক্ষা চালানো হবে।

আগামী তিন মাসের মধ্যে বাজারে আসছে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক । এমনটি জানিয়েছে ইসরাইলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী অফির আকুনিস। একটি বিজ্ঞপতিতে তিনি এমনটি জানান। ইসরাইলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী অফির আকুনিস ওই বিজ্ঞপতিতে বলেন, ইসরাইলের বিজ্ঞানীরা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করোনার প্রতিষেধক তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এরপর আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এটি পাওয়া যাবে।

সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, ইসরাইলের গ্যালিলি রিসার্চ ইন্সটিটিউটে ২৬০ জন বিজ্ঞানী ৫৩টি ল্যাবে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির কাজ করছেন। এই বিষয়ে গ্যালিলি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সিইও ডেভিড জিগডোন বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া দেখে আমরা প্রতিষেধক তৈরির সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিষেধকটি রোগীদের খেতে হবে। আমরা শিগগিরই এটি বাজারে আনার চেষ্টায় আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *