ড্রাগন ফল চাষ করে একর প্রতি বছরে আয় করুন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা

অন্যান্য

ড্রাগন ফল দামি ও সুস্বাদু ফল। ফলটি বিদেশি হলেও এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ড্রাগন ফল চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আর অল্প সময়েই অল্প পুঁজিতে ড্রগন ফল চাষ করে বেকার যুবকদের কোটিপতি হওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এই ফল চাষ করে একর প্রতি বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে দেশের বড় বড় শহরগুলোর সুপার শপগুলোতে ড্রাগন ফল পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফলের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

ড্রাগন ফল চাষ লাভজনক হওয়ায় এর চাষ ক্রমেই বাড়ছে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ করা হয়। ড্রাগন ফলের চাষের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং মাটি উপযোগী হওয়ায় এর ফলন ভালো হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার সাভার, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, বগুড়া, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ড্রাগন ফলের চাষ করা হচ্ছে। দেশের প্রায় দুই হাজার খামারে ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে।

ড্রাগন ফলের আদি স্থান হচ্ছে থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ফল ড্রাগন ফল বাংলাদেশে উৎপাদিত হওয়ায় এদেশের মানুষ ড্রাগন ফলের স্বাদ নিতে পারছে। ড্রাগন ফল অত্যন্ত সুস্বাদু মিষ্টি হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলে ঔষধি গুণ রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।

উঁচু মাটিতে, অল্প জায়গায় দীঘর্জীবী ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ২০০টি ড্রাগন ফলের গাছ রোপণ করা যায়। বীজ ও কাটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। ফুল থেকে ডিম্বাকৃতি ফল উৎপন্ন হয়। ফলটি হালকা মিষ্টি ও ক্যালরি কমযুক্ত এবং এতে কালোজিরার মতো অসংখ্য বীজ থাকে। একটি গাছ থেকে বছরে ৬০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যায়। ড্রাগন গাছ শতকরা ৫০ ভাগ খাবার বায়ুমন্ডল থেকেই সংগ্রহ করে। বাকি খাবার সংগ্রহ করে জৈব সার থেকে। দেশে এখন এই ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট জার্মপ্লাজম সেন্টারে।

ড্রাগন ফলের গাছ দেখতে একদম ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন ফুল নাইট কুইনের মতোই রাতে ফোটে। ফুলের আকার লম্বাটে এবং রং সাদা ও হলুদ। ডিম্বাকৃতির উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই ফলের নামটিও অদ্ভুত। সাধারণত ডায়াবেটিস রোগ নিবারণে ড্রাগন ফল বেশ উপকারী। ড্রাগন ফল হার্টের রোগ, ব্লাড প্রেসার, ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

ড্রাগন চাষে লাভ বেশি: জৈব পদার্থসমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটিই ড্রাগন চাষের জন্য উত্তম হলেও প্রায় সব ধরনের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। ড্রাগন গাছের কা- লতানো প্রকৃতির। ড্রাগন ফল চাষ খুব সহজ। অন্যান্য ফসলের চেয়ে চাষিদের পরিশ্রম অনেক কম, আয় বেশি। ড্রাগন ফলের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হলো জুন-জুলাই মাস।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মে মাস থেকে অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়। বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ও বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল)। এ দুটি জাত বাংলাদেশে চাষ করা হচ্ছে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিং চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। উপযুক্ত যতœ নিলে একরপ্রতি ৬ থেকে ৭ টন ফলন পাওয়া যায়। কেজিপ্রতি দাম ২০০ টাকা হলেও, যার বাজর মূল্য ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা। খরচ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বাদ দিলেও নিট লাভ হবে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। আমাদের দেশে ড্রাগন ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ড্রাগন ফল চাষে সফল অনেকে: ঢাকার সাভারে আশুলিয়ার মরিচকাটা গ্রামের রুম্পা চক্রবর্তী নামে শৌখিন এক ফলচাষি বাণিজ্যিকভাবে ১০ একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করে রীতিমতো হইচই সৃষ্টি করে ফেলেছেন। ঢাকার সাভারে আশুলিয়ার মরিচকাটা গ্রামে ওই ফলচাষি প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার গাছ লাগিয়ে এরই মধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে গাছগুলো ফলবতী হয়ে উঠছে। এ বছরই তিনি ৮ থেকে ১০ হাজার ফল পাওয়ার আশা করছেন।

ড্রাগন ফলের দেশ হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডে একটি গাছ পরিপূর্ণ ফলবান হতে সময় লাগে তিন বছর। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ড থেকে ড্রাগন ফলের চারা এনে জমিতে লাগানোর মাত্র এক বছরের মধ্যে ফল ধরতে দেখে তিনি নিজেই হতবাক হয়ে যান। তাই তিনি রফতানিযোগ্য এই ফলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে বেশি আশাবাদী। দেশে এখন এই ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রুট জার্মপ্লাজম সেন্টারে। সাভারের জিরানীতেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এই ফল। এল আর এগ্রোর স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমানও  গড়ে তুলেছেন ড্রাগন ফলের বাগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *