করোনায় লকডাউনকালে জরুরি সেবা-সরবরাহ নিয়ে মোদির নীরবতায় ভারতজুড়ে আতঙ্ক

ভারত লিড নিউজ

নয়াদিল্লি, ভারত- কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় যে বক্তৃতা করেছেন, সেখানে তিনি ২৪ মার্চ মধ্যরাত থেকে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই লকডাউন ২১ দিন স্থায়ী হবে। কিন্তু এই লকডাউনকালে ঘরে আবদ্ধ মানুষেরা কিভাবে জরুরি সেবা পাবে ও জরুরি সরবরাহগুলো কিভাবে চালু থাকবে, সেটা নিয়ে তিনি কোন কথা বলেননি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে মোদির বক্তৃতায় কোন উল্লেখ না থাকায় দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তৃতা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দেশজুড়ে বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় বাড়তে থাকে এবং মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য সেখানে ভিড় করে, যদিও তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিয়ে উদ্বেগ যথারীতি রয়েছে। এতে করে লকডাউনের যে প্রাথমিক উদ্দেশ্য – সেটাই সাময়িকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

এর পরপরই মোদি টুইটারে গিয়ে যেটা লিখেছেন, তাতে আতঙ্ক আরও ছড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, ‌’মধ্যরাত থেকে, সারা দেশে লকডাউন কার্যকর হবে। ভারতকে রক্ষার জন্য, ভারতের সকল নাগরিকদের রক্ষার জন্য, আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে রক্ষার জন্য, ঘর থেকে বের হওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কার্যত এটা কারফিউ… জনতা কারফিউয়ের পরের ধাপ এটা।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক পর্যায়ে নির্দেশনা জারি করে জানায় যে, লকডাউনের অধীনে ওষুধ, খাবার, মুদি, ফল, সবজি, দুধ, মাংস, মাছ ইত্যাদির দোকান পড়বে না এবং খাবার, ওষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের হোম ডেলিভারিও এর আওতায় পড়বে না। এমএইচএ আরও জানিয়েছে যে, লকডাউন না মানলে কি ধরণের শাস্তি দেয়া হবে।

মোদি বারবার জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, এই তিন সপ্তাহ যদি লকডাউন কার্যকর করা না হয়, তাহলে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মোদি তিন সপ্তাহ ব্যাপী যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন, সেটার সাথে ভাইরাস বিশারদদের পরামর্শের মিল রয়েছে।

কিন্তু জরুরি খাবার ও দরকারী জিনিসপত্রের যোগান কিভাবে হবে, সেটা নিয়ে রোববারের জনতা কারফিউয়ের সময় থেকে মোদির নীরবতার কারণে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মোদি শুধু যেটা বলেছিলেন, সেটা হলো জরুরি সেবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আছে এবং আগামী দিনগুলোতেও থাকবে। কিন্তু এর বেশি কিছু তিনি বলেননি।

সোমবার নিউজিল্যাণ্ডে লকডাউন ঘোষণার সময় সে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, মোদির কথার সাথে তার অনেক পার্থক্য। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডার্ন নাগরিকদের উদ্দেশে বলেছেন যে, নিউজিল্যাণ্ডে সুপারমার্কেট, ডাক্তার, ফার্মাসিউটিক্যালস, সার্ভিস স্টেশান, জরুরি ব্যাংকিংস সেবা সবকিছু চালু থাকবে.. যদি আপনার জরুরি কোন প্রয়োজন না থাকে, তাহলে সুপারমার্কেটে যাবেন না। সেখানে জিনিস আজ যেমন আছে, কাল তার পরদিনও থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *