কিভাবে পরীক্ষা করা হয় করোনা

অন্যান্য

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কোনো একটি পরীক্ষায় চিহ্নিত করা যায় না। একাধিক পরীক্ষার পর তবেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে জানা যায়। এর জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারেই করা সম্ভব। হাসপাতাল বা ল্যাবে একাধিক পরীক্ষা করে তবেই করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। সংক্রমণ নিশ্চিত হতে কয়েক ধরনের পরীক্ষা করা হয়। যেমন-

সোয়াব টেস্ট এই পরীক্ষায় একটি তুলার বল আক্রান্ত রোগীর গলা ও নাকের মধ্যে রেখে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারপরে সেটা পরীক্ষাগারে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

নাজাল টেস্ট এর জন্য পরীক্ষক একটি স্যালাইনের মাধ্যমে একটি রাসায়নিক নাকের ভেতরে প্রবেশ করায়, তারপর ইনজেকশনের মাধ্যমে নাকের মধ্য থেকে সেটি বের করে নমুনা সংগ্রহ করেন।

শ্বাসনালী পরীক্ষা একটি সুরু টিউবের মত নল যার নাম ব্রঞ্চোস্কোপ ফুসফুসের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

থুতু পরীক্ষা আক্রান্ত রোগীর থুতু পরীক্ষার জন্য নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। কারণ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সর্দি কাশি দুটোই হয়ে থাকে।

রক্ত পরীক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রক্ত পরীক্ষা। রক্ত পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাসের প্রকার সম্পর্কে জানা যায়।

কখন করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাবেন যদি করোনা ভাইরাস প্রভাবিত শহরে খুব সম্প্রতি বেড়াতে গিয়ে থাকেন। অথবা কোভিড-১৯ আক্রান্ত কোনও রোগীর সংস্পর্ষে এসে থাকেন তাহলে অবিলম্বে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করান।

এছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি, থুতু দিয়ে রক্ত বেরনো, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথার মত কিছু ঘটে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন করোনা ভাইরাস চিকিৎসার এখনও পর্যন্ত কোনও ওষুধ বেরোয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার দেহে এর চিহ্ন বা লক্ষণ খুঁজে পেতে অনেকদিন সময় লেগে যায়। সাধারণত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জ্বর বা কাশি নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তার ফুসফুসের ৫০% ফাইব্রোসিস (সূক্ষ্ম অংশুসমূহের বৃদ্ধি) তৈরি হয়ে যায়, যার মানে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

তাইওয়ানের বিশেষজ্ঞরা কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কি না, সেটা নিজে নিজেই পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যেটা কেউ প্রতিদিন সকালে উঠেই কয়েক সেকেন্ডে একবার পরীক্ষা করে নিশ্চিন্ত হতে পারেন।

পরীক্ষাটা হল-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে সেটাকে দশ সেকেন্ডের কিছুটা বেশি সময় ধরে আটকে রাখুন। যদি এই দম ধরে রাখার সময়ে আপনার কোনও কাশি না আসে, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব না হয়, মানে কোনও প্রকার অস্বস্তি না লাগে, তার মানে আপনার ফুসফুসে কোনও ফাইব্রোসিস তৈরি হয়নি অর্থাৎ কোনও ইনফেকশন হয়নি, আপনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *