করোনায় খোলা আকাশের নিচে সামাজিক দূরত্ব পালন করছে ছিন্নমূল মানুষেরা

আমেরিকা লিড নিউজ

নেভাদা, যুক্তরাষ্ট্র- খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ওপরেই সামাজিক দূরত্ব পালন করছে মার্কিন গৃহহীনরা। করোনার মহামারীর মধ্যেও তাদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। উল্টো ভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

নেভাদা রাজ্যের বিখ্যাত শহর লাস ভেগাসে গৃহহীনদের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। কিন্তু তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যবস্থা করা হয়নি। শহরের বড় পার্কিংয়ের জায়গাটিকেই তাদের জন্য অস্থায়ী ‘আশ্রয়কেন্দ্র’ করা হয়েছে। সেখানে খোলা আকাশের নিচেই বর্গাকার ঘর কেটে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাস হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে কঠোর সমালোচনা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে নিয়মিত হাত ধোয়া, বাড়িতে থাকা, মানুষের ভিড় থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে বারবার সতর্কতা জারি করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মানুষেরই মাথার গোজার ঠাই নেই। খাবার নেই, টয়লেটের ঠিক নেই, পানির ব্যবস্থা নেই। রাস্তায়, পার্কে অনেকের সাথে পাশাপাশি ঘুমাতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহহীন মানুষরা এখন এমন কঠিন পরিস্থিতিরই মুখোমুখি।

ওয়াশিংটনে কি অবস্থা

মেট্রোপলিটন ওয়াশিংটন কাউন্সিল অফ গভর্নমেন্টের এক সমীক্ষায় প্রকাশ, ২০১৯ সালে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসির গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ৯৭৯৪ জন। তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি আরো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন করোনারভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে।

গৃহহীনদের মধ্যে অনেক বয়স্ক মানুষ রয়েছেন, তাদের মধ্যে আবার অনেকেই প্রতিবন্ধী, অনেক মানুষ একসাথে রাস্তায় বাস করেন, তাদের নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা। যাদের বয়স বেশি, দুর্বল স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী, নিঃসন্দেহে তাদের করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি অনেক বেশি। ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স টু এন্ড হোমলেসনেসে তথ্যটি প্রকাশ পায়।

ওয়াশিংটনের আইনজীবী অ্যাম্বার হার্ডিং গৃহহীনদের নানা সমস্যা সমাধানে টেলিফোনে তাদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এখন তিনি করোনা সমস্যার মোকাবিলা নিয়ে তাদের সাথে ফোনেই আলোচনা করছেন। অন্য সময় গৃহহীনদের আশ্রয়স্থল পাওয়ার জন্য যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো, এখন তা হচ্ছে না।

জায়গা পাওয়ার আগে তাদের পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র ছাড়াও নানা বিষয় প্রমাণ করতে হতো। কিছুটা হলেও সুখের কথা, করোনা সংকটের সময় সেসবের প্রয়োজন হচ্ছে না। হার্ডিং জানালেন, এখন সবকিছু টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমেই চলছে।

এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসি গৃহহীনদের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হচ্ছে তাদের উচ্ছেদ রোধ করা। এ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের মেয়র জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। এর ফলে করোনা সংকটের সময়ে কাউকে জোর করে রাস্তায় বের করে দেওয়া যাবে না।

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি যথেষ্ট নয়। কারণ করোনা সংকট কেটে গেলে সকলকেই আবার বাড়ি ভাড়া দিতে হবে, এমনকি যারা সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পায় বা জরুরি অবস্থার কারণে চাকরিও হারায়, তাদেরও কিন্তু বাড়ি ভাড়া দিতেই হবে। অন্যথায় বাড়ি ছাড়তে হবে। জানান, আইনজীবি হার্ডিং। নিউইয়র্ক সিটিতেও গৃহহীনরা করোনা ভাইরাসের শিকার হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *