করোনা: ভারতে বর্ণবাদী হামলার শিকার হচ্ছে ‘চীনা চেহারার’ নাগরিকেরা

ভারত লিড নিউজ

নয়াদিল্লি, ভারত- ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের। সেই সঙ্গে আতঙ্ক- উত্তেজনাও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে আসা অধিবাসীরা দেশের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদী হামলার শিকার হচ্ছে। তাদের মঙ্গোলিয় বা চীনাদের মতো চেহারার কারণে তাদেরকে দোষারোপ করা হচ্ছে যে, তারা কোভিড-১৯ রোগের বাহক। তাদের প্রতি নানা বৈষম্যও করা হচ্ছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ খবর দেয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের মানুষদের চেহারা দেখতে চীনের হান প্রদেশের মানুষের মতো। হামলার শিকার ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের উপর শারীরিকভাবে হামলা করা হচ্ছে, এবং সোশাল মিডিয়ায় তাদেরকে নিয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে।

মনিপুর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশানের সাধারণ সম্পাদক থোকচোম সিঙ্ঘাজিৎ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমার সহকর্মীদের উপর দিল্লীর বাইরে সম্প্রতি হামলা করা হয়েছে এবং তাদেরকে গালমন্দ করা হয়েছে। অতীতে সবসময়ই বর্ণবাদী আচরণ করা হয়েছে আমাদের উপর, কিন্তু এবার সেটা নতুন মাত্রায় চলে গেছে।’

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরের এক শিক্ষার্থী রিপ্পোন সাংলাই বলেন, “লকডাউনের সময় আমাকে একটা মুদির দোকানে ঢুকতে দেয়া হয়। দোকানের মালিক আমাকে আর আমার বন্ধুদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে।’

বৈষম্য বাড়ছে

রিঞ্জিন দর্জি ও তার মেয়ে শেরিং ইয়াংজোমকে ১৬ মার্চ তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভবনের প্রশাসন দাবি করে যে, তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। ইয়াংজোম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ’আমরা তাদেরকে মেডিকেল কাগজপত্র দেখিয়েছি, কিন্তু পাহারাদার আমাদের কথা শোনেনি।’

আম্বেদকার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বিবিনাজ থোকচোম বলেছেন, ভারতে করোনা ভাইরাস সঙ্কটের কারণে সমাজের দুর্বল অংশগুলো আরও অসহায় হয়ে পড়েছে এবং তারা হামলা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মানুষের সহায়তার জন্য ২০০৭ সালে নর্থইস্ট সাপোর্ট সেন্টার অ্যাণ্ড হেল্পলাইন প্রতিষ্ঠিত হয়। সারা দেশ থেকে এখন তাদের কাছে প্রচুর টেলিফোন কল আসছে। এই হেল্পলাইনের দেখাশোনা করেন আলানা গোলমেই। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন যে, ‘প্রায় প্রতিদিনই আমি পাঁচ থেকে ছয়টি ফোন কল পাই ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে।

বর্ণবাদ থামানোটা অগ্রাধিকার নয়

২০১২ সালে তীব্র জাতিগত হামলার মধ্যে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর হাজার হাজার মানুষকে দক্ষিণের ব্যাঙ্গালোর শহর থেকে পালাতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই সময় ওই সহিংসতার কারণে ১৭০,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে পালাতে হয়েছিল, যেটা পরে ভারতের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

দুই বছর পরে, উত্তরপূর্বাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা দিল্লীতে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ করে এবং বর্ণবাদী হামলার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ জানায়।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘করোনাভাইরাস প্যানডেমিক: ইন্ডিয়া’স মোঙ্গলয়েড লুকিং পিপল ফেস আপসার্জ অব রেসিজম’ শীর্ষক এক রিপোর্টে নয়াদিল্লী-ভিত্তিক অধিকার ও ঝুঁকি পর্যালোচনা গোষ্ঠি (আরআরএজি) অন্তত ২২টি ঘটনার উল্লেখ করেছে, যেখানে ৭ ফেব্রুয়ারি তেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়কালে উত্তরপূর্বাঞ্চলী রাজ্যগুলোর মানুষদের সাথে বর্ণবাদী বৈষম্য বা ঘৃণামূলক অপরাধ করা হয়েছে।

আরআরএজি’র ডিরেক্টর সুহাস চাকমা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে এ ধরণের ঘটনা ঘটছে। এই সব হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *