ইউরোপ কানাডার মাস্ক ছিনতাই করছে যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকা ইউরোপ লিড নিউজ

ইউরোপ ও কানাডায় মাস্ক ঢুকতে দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বড় বড় চালানগুলো সব ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে নিজেদের দেশে। শুধু মাস্কই নয়, লাখ লাখ টেস্টিং কিট, ডাক্তার-নার্সদের জন্য প্রয়োজনীয় হ্যান্ড গ্লাভস ও অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জামও ছিনতাই করছে। কখনও বিমানবন্দর থেকেই পন্য বোঝাই বিমান ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কখনও মূল পরিশোধ করা পন্য দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি দামে কিনে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাস্ক ছিনতাইয়ের এ কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একে ‘আধুনিক দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও আরও কয়েকটি দেশ।

চীনের সাংহাই বিমানবন্দর থেকে গত মাসেই নাটকীয়ভাবে ছিনতাই হয়ে যায় একটি বিমান। প্রায় ৬ কোটি মাস্কসহ জীবন রক্ষাকারী অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জাম বোঝাই বিমানটি যাওয়ার কথা ছিল ব্যাপকভাবে করোনাপীড়িত ফ্রান্সে। স্থানীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘুষ দিয়ে বিমানটির রুট বদলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন গোয়েন্দারা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভয়ানক এই অভিযোগ করেছেন ফ্রান্সের প্রভিন্স-আল্পস-কোট ডি’আজুর প্রেসিডেন্ট রেনোড মুসেলিয়ার। নিজের এলাকার নাগরিকদের জন্য চীনের একটি কোম্পানিকে এসব মেডিকেল সরঞ্জামের ক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন তিনি। তিনি এর অর্থও পরিশোধ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার ফরাসি পত্রিকা লিবারেশনকে রেনোড বলেন, ‘পন্য দেখার আগেই দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনে নিয়েছে মার্কিনিরা।’

বার্লিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেয়াস গাইসেল অভিযোগ করেছেন, বার্লিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া দুই লাখ মাস্কের একটি চালান ব্যাংককে আটকে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। করোনা সংকটের মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়া বার্লিন রাজ্য পুলিশ সদস্যদের জন্য এফএফপি-টু ক্লাসের এইসব মাস্ক অর্ডার দেয়া হয়েছিল।

জার্মান সরকারের সংসদীয় গ্রুপের চেয়ারম্যান রোল্ফ ম্যুৎসেনিশ মাস্ক ‘জব্দের’ ঘটনাকে ‘বেআইনী’ আখ্যা দিয়ে এর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। গাইসেল জানান, বার্লিন এই মাস্কগুলো একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কিনেছে। জার্মানির টাগেসশ্পিগেল পত্রিকা জানিয়েছে এগুলো উৎপাদন করা হয়েছে চীনে। গাইসেলও ফেডারেল সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগের।

অ্যামেরিকান মাস্ক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থ্রিএম অবশ্য জার্মানির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের জানা নেই। ফ্রান্স এবং ক্যানাডাও তীব্র সমালোচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কর্মকাণ্ডের।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত অঞ্চল ইল দ্য ফঁস এর প্রেসিডেন্ট ভালেরি পেক্রোঁস জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে বেশি দাম দিয়ে ফ্রান্সের জন্য প্রস্তুত করা মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র কিনে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অ্যামেরিকানরা অনেক বেশি দাম দিচ্ছে, ফলে পৃথিবীর এই দুর্দশার সময়েও কেউ কেউ বেশি টাকা কামানোর লোভ সামলাতে পারছে না।’

ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও একই ধরনের ঘটনায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। ক্যানাডার অর্ডার করা মাস্ক এসে পৌঁছেছে, তবে তা অর্ডার দেয়া সংখ্যার তুলনায় অনেক কম৷ তিনি অভিযোগ করেন, ‘বেশি দাম’ দিয়ে ‘কেউ একজন’ বাকি মাস্ক কিনে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি অ্যামেরিকার প্রয়োজন অনেক বেশি, কিন্তু ক্যানাডারও একই অবস্থা৷ ফলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *