হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে করোনা আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপ লিড নিউজ

লন্ডন, ব্রিটেন- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দশদিন আগে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর রোববার তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বলা হয়েছে এদিন সন্ধ্যায় তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। জ্বরসহ করোনাভাইরাসের অন্যান্য উপসর্গ ছিল তখন তার শরীরে। বলা হচ্ছে, ‘সতর্কতা’ হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শে জনসনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির।

অসুস্থতা সত্ত্বেও জনসন ব্রিটেনে সরকার প্রধানের দায়িত্বপালন চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে আজ পরের দিকে করোনাভাইরাস নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য একটি সভায় সভাপতিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ধারণা করা হচ্ছে জনসন রাতে হাসপাতালে থাকবেন এবং ‘রুটিন পরীক্ষানিরীক্ষা’ করা হবে তার। এক বিবৃতিতে ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী মি. জনসনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা এনএইচএসের সব কর্মীকে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং জনগণকে সরকারের উপদেশ অনুযায়ী বাড়িতে থাকতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং জীবনরক্ষায় সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।’

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে এক ব্রিফিংয়ের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আরোগ্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ‘প্রতিটি আমেরিকান তার জন্য প্রার্থনা করছে। তিনি আমার একজন খুবই ভালো বন্ধু, একজন অসাধারণ ভদ্রলোক এবং একজন অসাধারণ নেতা।’

ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে মি. জনসন দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন, কেননা তিনি একজন ‘শক্ত মানুষ’। এদিকে, লেবার নেতা কির স্টারমারও জনসনের দ্রুত আরোগ্য কামনা তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। করোনাভাইরাস নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চাপ ব্রিটেনের রানী এবং প্রধানমন্ত্রী দুইজনই করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে দেশটির জনগণের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগতভাবে ভাইরাসের ভয়াবহতা অনুভব করতে পারছেন।

তবে অসুস্থতা সত্ত্বেও ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তারা চান জনসন যেন সরকার প্রধানের দায়িত্ব চালিয়ে যান, এবং মন্ত্রীসভার সদস্য ও আমলাদের সঙ্গে যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই ভাইরাস বিষয়ে প্রচলিত ও স্বাভাবিক কোনকিছু আগাম বলা সম্ভব নয়, যতই বলা হোক প্রধানমন্ত্রীর ‘রুটিন পরীক্ষানিরীক্ষা’ করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস এর আগেও তার প্রাণসংহারী ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীসভার সদস্যদের সবাইকে ‘সেলফ আইসোলেশনে’ পাঠানো হয়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, মানুষের স্বাভাবিক স্বাধীনতার পরিধি সীমিত হয়েছে এবং সর্বোপরি এখন দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *