করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক কোটি : জার্মানির গ্যোটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

ইউরোপ লিড নিউজ

বার্লিন, জার্মানি-  মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক কোটি ছাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেছে জার্মানির গ্যোটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আর এরমধ্যে মাত্র ছয় শতাংশকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

নতুন ওই গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো করোনা আক্রান্তের যে আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

সেন্ট্রাল জার্মানির গ্যোটিংগেন ইউনির্ভাসিটির দুই গবেষক ক্রিস্টিয়ান বোমার ও সেবাস্টিয়ান ভল্মের মাসিক জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট ইনফেকশিয়াস ডিজিজেস’-এ সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণাপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করেন।

তারা আক্রান্তের আনুষ্ঠানিক রেকর্ড কতটা ঠিক সেটা মূল্যায়ন করতে করোনায় সংক্রমণে মৃত্যু এবং সংক্রমিত হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ‍মাঝের সময় নিয়ে হিসাব করেন। এতে দেখা যায়, পৃথিবীজুড়ে দেশগুলো গড়ে মোট আক্রান্তের মাত্র ছয় শতাংশ শনাক্ত করতে পেরেছে।

অধ্যাপক ভল্মের বলেন, ‘আসলে করোনা সংক্রমণের মোট সংখ্যা ইতোমধ্যেই কোটি ছাড়িয়েছে। তাই সরকার বা নীতিনির্ধারকদের করোনা সংক্রমণের সংখ্যার ভিত্তিতে কোনও পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে চরম সাবধানতা অবলম্বন করা ‍উচিত।’

বিভিন্ন দেশে টেস্টের পরিমাণ ও টেস্টের ফলের গ্রহণযোগ্যতার মধ্যেও ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে বলে সতর্ক করেন অধ্যাপক ভল্মের। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক এসব তথ্য খুব একটা সাহায্য করতে পারবে না।’

দুই গবেষক বলেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত জার্মানিতে হয়তো চার লাখ ৬০ ‍হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে হয়তো মোট সংক্রমণ এক কোটি ছাড়িয়েছে। স্পেনে ৫০ লাখের বেশি, ইতালিতে ৩০ লাখের বেশি এবং যুক্তরাজ্যে ২০ লাখের মত মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন।

অথচ জনস হপকিন্স ইউনির্ভাসিটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী ৩১ ‍মার্চ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে নয় লাখের মতো মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, অপর্যাপ্ত এবং দেরিতে টেস্ট করানোর ফলেই হয়তো ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপের কয়েকটি দেশে জার্মানির তুলনায় করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর হার এত বেশি।

গবেষকরা দেশগুলোকে ব্যাপক হারে টেস্ট বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, শনাক্তের পর নতুন রোগীদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করতে হবে। যদি দেশগুলো এটা করতে ব্যর্থ হয়; দীর্ঘ সময় ধরে ভাইরাসটি লুকিয়ে রয়ে যাবে। যেকোনও সময় আবার এর প্রদুর্ভাব ঘটবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *