তিন মাস করোনায় ভুগে যে হাল হয়েছে দুই চীনা ডাক্তারের

চীন

উহান, চীন- তিন মাস করোনায় ভুগে বেহাল অবস্থা হয়েছে দুই চীনা ডাক্তারের। ভাইরাসে পুরো কালো হয়ে গেছে তাদের সারা শরীর। আক্রান্ত হওয়ার পর গুরুতর অবস্থায় তারা দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে জেগে ওঠার পর নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। দেখলেন, তাদের শরীরের সাদা চামড়া কুচকুচে কালো হয়ে গেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভাইরাসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের লিভার। ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে হরমোনেও। আর এ কারণেই কালো হয়ে গেছে পুরো শরীর। খবর বেইজিং টেলিভিশন, সিএনএন ও ডেইলি মেইল।

ডাক্তার ওয়াই ফ্যান ও ডাক্তার হু ওয়েইফেং। তরুণ ডাক্তার, দুজনেরই বয়স ৪২ বছর। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর করোনার উপকেন্দ্র হুবেই প্রদেশের উহানে উহান সেন্ট্রাল হসপিটাল সম্মুখভাগে থেকে লড়াই করছিলেন তারা। হাসপাতাল থেকেই আক্রান্ত হন উভয়েই।

আরও পড়ুন-পরীক্ষাগার থেকে করোনা ছড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই, বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা https://bit.ly/2XRVklh

১৮ জানুয়ারি পরীক্ষায় ধরা পড়ে। কয়েকদিনের মধ্যে শারীরিক অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করে। জীবন বাঁচাতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। একটানা ৩৯ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ডাক্তার ওয়াই ফ্যান। আর ডাক্তার ওয়েইফেং ছিলেন ৯৯ দিন। করোনার সঙ্গে প্রচণ্ড লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন তারা। কিন্তু মৃত্যুর কাছে পরাজয় বরণ করেছেন তাদের সহকর্মী করোনা ভাইরাস হুইসেলব্লেয়ার খ্যাত লি ওয়েনলিয়াং।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, প্রথমে ওই চিকিৎসকদের উহান পালমোনারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় টংজি হাসপাতালের জংফা শিনচেং শাখায়। চিকিৎসক ই একজন কার্ডিওলোজিস্ট। তাকে ৩৯ দিন ধরে লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল।

এই লাইফ সাপোর্ট হৃদপিন্ড ও ফুসফুস ছাড়াই মানুষের দেহে অক্সিজেন প্রবেশ ও রক্তে তা সরবরাহ করে থাকে। এভাবে প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ই। নিজেই তিনি সেটা জানিয়েছেন সবাইকে। তিনি বলেন, এখন চাইলেই নড়াচড়া করতে পারেন।

তবে কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটা কষ্টকর এখনও। তাকে আর লাইফ সাপোর্টে থাকতে হচ্ছে না। তিনি এখন সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে অপর চিকিৎসক হু এখনো কিছুটা অসুস্থ। ফলে তার কোনো মন্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তিনি হ্যান্ডশেক করে অভিবাদন জানিয়েছেন।

সহকর্মী লি জানান, তিনি হু-এর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাকে দেখতে গেলেই তিনি অনবরত কথা বলতে শুরু করেন। তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হলেও এখনো তাকে আইসিইউতে রাখতে হচ্ছে। লি জানান, তার ধারণা চিকিৎসক হু ও ই-এর গায়ের রঙ এমন কালো হয়ে যাওয়ার কারণ তাদেরকে দেয়া ঔষধ।

তিনি এ জন্য একটি নির্দিষ্ট ঔষধের কথা বলেন। তবে এর নাম তিনি জানাননি। ড. লি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেই উভয় চিকিৎসকের গায়ের রঙ পূর্বের মতো হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *