সরকার দিচ্ছে না, পকেটের টাকা দিয়েই পিপিই কিনছে ব্রিটেনের ডাক্তাররা

ইউরোপ লিড নিউজ

লন্ডন, ব্রিটেন- করোনা চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত পিপিইর (পার্সোনাল প্রটেকশন একুপমেন্ট) ব্যবস্থা করতে পারেনি সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ ব্রিটেন। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে পিপিই কিনে নিতে হচ্ছে ডাক্তার-নার্সদের।

দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, এভাবে প্রায় অর্ধেক চিকিৎসককেই নিজেদের পিপিই নিজেদেরকেই সংগ্রহ করতে হয়েছে। অনেকে অনুদান পাওয়া পিপিই দিয়েই কাজ চালাচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুরক্ষা নেই। ব্রিটিশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে উঠে এসেছে অপ্রীতিকর এসব তথ্য।

আরও পড়তে পারেন- করোনাকে জয় করে বাবা হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

১৬ হাজার ফ্রন্টলাইনে কাজ করা চিকিৎসকদের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়,করোনা মোকাবেলায় তাদের যে সুরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে তা নামমাত্র। শতকরা ৪৮ শতাংশ চিকিৎসক নিজের টাকায় পিপিই কিনছেন বা চ্যারিট ফার্ম তাদেরকে দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিএমএ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জানান,চিকিৎসকরা করুণার উপর চলছে, তাদের কোন নিরাপত্তা নেই। জরিপ চলাকালীন দেখা যায়, প্রায় এক তৃতীয়াংশ চিকিৎসক পিপিই সংকট, সরঞ্জামের অভাব নিয়ে কোন কথা বলছে রাজি হয়নি। কারণ তাদের ধারণা অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা মিলবে না এই সংকটের।

আরও পড়তে পারেন- করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে নিকোটিন: নতুন গবেষণা

সুরক্ষা নিশ্চিত করোনা প্রকোপ এখন গোটা বিশ্ব জুড়ে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থকরে তুলতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের ফ্রন্টলাইনের সব চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে চিকিৎসকদের বর্তমানের নিত্যদিনের সঙ্গী পিপিই নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। অনেক চিকিৎসক নিজের টাকায় পিপিই কিনছে। সরকার বলছে পিপিই সরবরাহের পিছনে চব্বিশ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে তারা। মহামারী শুরুর পর থেকে অসংখ্য পিপিই সরবরাহ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

ব্রিটেনে এর আগেও পিপিই’র ঘাটতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছে। পিপিইর অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন পরে করোনা রোগীদের সেবা দিয়েছিলেন তিন নার্স। কয়েকদিন পর তারা তিনজনই আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেসময় বিশ্বব্যাপী তারা অনেক প্রশংসিত হলেও পলিথিন পরে এমন ঝুঁকির কাজের মূল্য দিতে হয়েছে তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *